সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যু

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যু

রাজনীতির অপূরণীয় ক্ষতি

সম্পাদকীয় ৯:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৫, ২০১৯

print
সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যু

সময় শেষ হয়ে গেলে সবাইকেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়। তবে মৃত্যুর পর কীর্তিমান মানুষরা কর্মের মধ্যেই বেঁচে থাকেন। সাদেক হোসেন খোকা তেমনি একজন বরেণ্য মানুষ। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ গেরিলাযোদ্ধার জীবনাবসানের ফলে দেশ একজন গুণী মানুষকে হারাল। আমরা এই মহান মুক্তিযোদ্ধার আত্মার শান্তি কামনা করি।

গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ী, সাবেক মন্ত্রী, অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা গত সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে মারা গেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

খোকার মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি বলে জানিয়েছে বিএনপি। শোক প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগও। ১৯৫২ সালের ১২ মে সাদেক হোসেন খোকার জন্ম। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। গেরিলাযোদ্ধা হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেন তিনি। আশির দশকে মওলানা ভাসানীর ন্যাপ ছেড়ে আসেন বিএনপিতে। ওই সময় নয়াবাজার নবাব ইউসুফ মার্কেটে বিএনপির কার্যালয় থেকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করে সাতদলীয় জোটের নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ওই আন্দোলনে ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পান খোকা।

১৯৯০ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে পুরান ঢাকার মানুষের মনে আস্থার জায়গা করে নেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ঢাকা-৭ আসন (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) থেকে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ঢাকার আটটি আসনের মধ্যে সাতটিতে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হলেও একমাত্র খোকা নির্বাচিত হন।

এভাবে ঢাকার রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হয়ে ওঠেন খোকা। তখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রায় পাঁচ বছর একক নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতায় পরিণত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী হন। ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন।

২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকার মেয়র ছিলেন। আমরা এ মহান মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। ১৯৭১ সালে গেরিলাযোদ্ধা হিসেবে রণাঙ্গনে তার ভূমিকা জাতি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।