ঢাকা সিটি নির্বাচন

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঢাকা সিটি নির্বাচন

উৎসবমুখর হোক

সম্পাদকীয় ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৪, ২০১৯

print
ঢাকা সিটি নির্বাচন

ঢাকা শহরে ফের ভোটের আগমনী বার্তা চলে এসেছে। নগরের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের জন্য ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন মেয়র ও কাউন্সেলরদের। এক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার পরিবেশটা যেন উৎসবমুখর হয় সেটিই নগরবাসীর কাম্য। বিগত সিটি নির্বাচনে বিজয়ীরা তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটুকু রেখেছেন ও কারা নগরের উন্নয়নে প্রকৃত ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন সেটি বিবেচনা করে ভোটাররা তাদের যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

পত্রিকায় প্রকাশ, আগামী জানুয়ারি মাসে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভোট। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর রোববার এ তথ্য জানান। ১৫ নভেম্বরের পর তফসিল ঘোষণা করা হবে আর এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনে ভোট হবে ইভিএমে। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল প্রথমবারের মতো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করতে হবে। সেই হিসাবে ঢাকা উত্তরের মেয়াদ হবে আগামী বছরের ১৩ মে পর্যন্ত; দক্ষিণ সিটির মেয়াদ ১৬ মে।

এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলে শুদ্ধি অভিযান চালানোর সময়েই ঘণ্টা বাজল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের। নতুন বছরের প্রথম মাসের নির্বাচনে ঢাকার দুই সিটির বর্তমান মেয়ররা অংশ নিতে পারেন। চলছে এমন জোর আলোচনার হাওয়া, সেই সঙ্গে তদবিরের তোড়জোড়। এ দুজনের সঙ্গে প্রার্থিতার দৌড়ে রয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও। অন্যদিকে মনোনয়নের টিকিট চাইছেন নতুনরাও। শেষ পর্যন্ত নতুন-পুরাতন মিশিয়েই দলের প্রার্থিতা দিতে পারে আওয়ামী লীগ- এমনটিই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এবার মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন বলে জানা গেছে। তবে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে প্রার্থিতা দেওয়ার বিষয়ে সজাগ আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়া বিএনপি আসন্ন সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটি ঢাকার দুই সিটিতে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। সে অনুযায়ী সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যালও দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী আলোচিত নেতারা এখনো মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে হাল ছাড়েননি, তৎপর রয়েছেন মাঠে। সব মিলিয়ে আমরা আশা করব, সবার অংশগ্রহণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের এ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। সেই সঙ্গে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যদি ইভিএম ব্যবহার করা হয়, তাহলে ইভিএম নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উত্থাপিত হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন সচেতন থাকবে আমরা সে প্রত্যাশা করি।