পরিবহন আইন প্রয়োগ

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পরিবহন আইন প্রয়োগ

সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা জরুরি

সম্পাদকীয়-১ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৪, ২০১৯

print
পরিবহন আইন প্রয়োগ

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে চলতি মাসের শুরু থেকে কার্যকর করা হয়েছে নতুন সড়ক পরিবহন আইন। বহুল আলোচিত এই আইন বেশ কিছুদিন আগে প্রণয়ন করা হলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকের বাধার মুখে এতদিন বাস্তবায়নে যায়নি সরকার। এবার বাস্তবায়ন শুরু হতেই পরিবহন সিন্ডিকেটের সেই পুরনো ফাঁদ পেতেছে মালিকরা। রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে গণপরিবহন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী।

খোলা কাগজে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, রোববার দিনভর বিভিন্ন রুটে বাস ছিল প্রয়োজনের তুলনায় কম। সূত্র বলছে, জিম্মি করার উদ্দেশ্য ছাড়াও মামলা খাওয়া বা জরিমানার ভয়ে কিছু পরিবহন রাস্তায় নামেনি। অবশ্য পরিবহন মালিকদের এই ফাঁদ বেশ পুরনো। নিজেদের মধ্যে সিন্ডিকেট তৈরি করে ‘পান থেকে চুন খসলেই’ রাস্তা থেকে বাস তুলে নিয়ে তারা জনগণকে জিম্মি করে থাকেন। এক পর্যায়ে রাষ্ট্রও যেন অসহায় হয়ে পড়ে এই জিম্মি ব্যবস্থার কাছে। এর আগে ‘ট্রাফিক সপ্তাহ’ কিংবা কোনো চালককে শাস্তি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছিল।

নতুন সড়ক পরিবহন আইনে সব ধরনের সাজা বাড়ানো হয়েছে। ট্রাফিক সংকেত ভঙ্গের জরিমানা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার, হেলমেট না পরলে জরিমানা ২০০ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। সিটবেল্ট না বাঁধলে, মোবাইল ফোনে কথা বললে চালকের সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে কাউকে আহত করলে তিন লাখ টাকা জরিমানা ও তিন বছরের জেল হতে পারে। চালকদের লাইসেন্স পেতে অষ্টম শ্রেণি, সহকারীকে পঞ্চম শ্রেণি পাস হতে হবে। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২ পয়েন্ট রাখা হয়েছে। আইন ভঙ্গে জেল-জরিমানা ছাড়াও লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটা যাবে। পুরো ১২ পয়েন্ট কাটা গেলে লাইসেন্স বাতিল।

প্রকৃতপক্ষে দেশের সড়কে অব্যবস্থাপনা যেন দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত। প্রতিদিনই পরিবহনের চাকার নিচে পিষ্ট হতে হয় কাউকে না কাউকে। এর মধ্যে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুলশিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছিল না। অবশেষে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে কার্যকর করা হলো নতুন সড়ক পরিবহন আইন। কিন্তু পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো আপাতভাবে এই আইন মেনে নিলেও ইতোমধ্যেই অসন্তোষও প্রকাশ করেছে। এক্ষেত্রে সরকার বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার আলোকে কাজ করবে আমরা সে প্রত্যাশাই করি।