প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা

বৈধপথে রেমিট্যান্স বাড়ুক

সম্পাদকীয় ৮:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৩, ২০১৯

print
প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু বিদেশের শ্রমবাজারে কাজ করা দেশের শ্রমজীবীরা তাদের রোজগারের অর্থ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হুন্ডিসহ বিভিন্ন অবৈধ পথে পাঠান। এতে রেমিট্যান্সের অর্থ দেশে পরিজনের কাছে এলেও তা রিজার্ভে যোগ হয় না। রিজার্ভে যুক্ত হয় শুধু বৈধপথে পাঠানো অর্থ। এজন্য সরকার বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করে। আর প্রবাসী আয়ের তিন মাসের হিসাবে প্রণোদনা ঘোষণার এ প্রভাব মিলেছে।

খোলা কাগজে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৪ দশমিক ৫১১ বিলিয়ন ডলার। এই রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৪১ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলার বেশি, যা ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল ৩ দশমিক ৮৬৯ বিলিয়ন ডলার।

হুন্ডির মাধ্যমে টাকা এলে সরাসরি বিদেশে অবস্থানরত হুন্ডি কারবারিরা বিদেশে অবস্থান করে। সেখান থেকে তারা অর্থ সংগ্রহ করে বিদেশেই রেখে দেয়। আর দেশে অবস্থানরত তার প্রতিনিধিরা প্রবাসীদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেয়। এক্ষেত্রে প্রবাসীরা স্বজনদের কাছে টাকা পাঠালেও তা দেশে আসে না, বিদেশেই ওই টাকা থেকে যায়। দেশে প্রবাসীর স্বজনের কাছে পৌঁছে দেশ থেকেই।

অন্যদিকে ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈধপথে অর্থ এলে ওই ডলার বা বিদেশি মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রেখে তার স্বজনের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়। এর ফলে একদিকে ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলারের মাধ্যমে রিজার্ভ ভারী হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসীর স্বজনের কাছে টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। এজন্য সরকার প্রবাসীদের বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সর্বশেষ চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় সরকার বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করে। এক হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স দেশে আনার ক্ষেত্রে তার টাকার উৎস জানতে চাওয়া হবে না।

পাশাপাশি আগের বছরগুলো বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের যেসব প্রণোদনা-কার্যক্রম চালু ছিল সেগুলোও চলমান থাকবে। আমরা আশা করি সরকারের গৃহীত এ প্রণোদনার ফলে প্রবাসীরা এখন হুন্ডির বদলে বৈধভাবেই দেশে টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জাতীয় উন্নতিতে ভূমিকা রাখবেন।