সড়কে নতুন আইন কার্যকর

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সড়কে নতুন আইন কার্যকর

এবার শৃঙ্খলা ফিরুক

সম্পাদকীয়-১ ৯:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০১, ২০১৯

print
সড়কে নতুন আইন কার্যকর

নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশিত সুদিন আজো ফেরেনি। এখনো সড়কে নামলেই বিশৃঙ্খলার চিত্র সর্বত্র প্রতীয়মাণ হয়ে ওঠে। জীবনের তাগিদে বাধ্য হয়েই ঘর থেকে রাস্তায় বের হতে হয়, তাই আমরা যেন ধরেই নিয়েছি সড়কের এ অচলাবস্থা আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু তবুও এ অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ের গহবরে আমরা আলোর মুখ দেখতে চাই, এক্ষেত্রে নাগরিক জীবনের প্রত্যাশায় আশার দিগন্ত ছুঁয়ে কার্যকর হয়েছে নতুন আইন। তবে এ আইন কতটা কার্যকর হবে এবং সড়কে প্রকৃতপক্ষেই শৃঙ্খলা ফেরাতে সক্ষম হবে কী না সেটি এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে।

খোলা কাগজে প্রকাশ, বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস হওয়ার ১৩ মাস পর গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। আইনটি নিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনকারী এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অসন্তুষ্টি কিছুটা প্রশমিত করে সরকার আইনটি কার্যকর করতে যাচ্ছে। এই আইন মন্ত্রিসভায় পাস হওয়ার পর নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও চিত্র পরিচালক ইলিয়াস কাঞ্চন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছিলেন, সংসদে আইনটি পাস হওয়ার আগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সর্বনিম্ন সাজা যেন ১০ বছর করা হয়।

এজন্য তিনি উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই নির্দেশনাও ছিল কমপক্ষে সাত বছর বা তার বেশি সাজার কথা। কিন্তু সরকার নিসচার দাবি ও আদালতের নির্দেশনা এড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখে। আর আইনটি সংসদে পাস হওয়ার পর পরিবহন মালিক শ্রমিকরা সেটি কার্যকরের আগে কয়েকটি ধারার ব্যাপারে আপত্তি তোলেন এবং সেগুলোর শিথিল করার দাবি জানান। দাবির মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা, মৃত্যুদণ্ড ও বয়সের বিষয়টি ছিল উল্লেখযোগ্য।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন এবং পরিবহনের মালিক-শ্রমিকের এমন পরস্পর বিরোধী দাবি ও অবস্থানের কথা চিন্তা করে সরকার আইনটি কার্যকরের আগে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করে। পরে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে। এ সময় তাদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে না পারলেও তারা মারমুখি অবস্থান থেকে পিছু হটে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার মধ্যপন্থা অবলম্বন করে এবং আইনটি কার্যকরে গত ২২ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে। জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গতকাল থেকে সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হলো, যাকে এক ধরনের মন্দের ভালো বলা যায়।

আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হলেও মালিক-শ্রমিকের বাধার মুখে প্রয়োগ করা যাচ্ছিল না। পরে সরকার মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বিদেশে সড়ক দুর্ঘটনার কঠোর আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আইনটি কার্যকরের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়। সামগ্রিকভাবে দৃশ্যমান এত সীমাবদ্ধতার মাঝেও নতুন আইন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সক্ষম হোক আমরা সে প্রত্যাশাই করি।