সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিথর আট শিশু

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিথর আট শিশু

সমবেদনা জানাই

সম্পাদকীয়-১ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৯

print
সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিথর আট শিশু

আমাদের জীবনে দুর্ঘটনা কোনো ঘোষণা দিয়ে আসে না। হঠাৎ করেই অপ্রত্যাশিত ঘটনা আমাদের জীবনে ঘটে যায়। এক্ষেত্রে যারা স্বজন হারান তারাই উপলব্ধি করেন প্রিয়জন হারানোর কষ্ট। তারপরও ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে সেজন্য সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। পত্রিকায় প্রকাশ, রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় বেলুন ফোলানোর একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আট শিশু নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন ১২ শিশুসহ আরও অন্তত ১৫ জন।

গত বুধবার রাজধানীর মনিপুর স্কুলের রূপনগর শাখার বিপরীত দিকে ১১ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এক বেলুন বিক্রেতার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ভ্যানে করে গ্যাস সিলেন্ডার নিয়ে বেলুন ফুলিয়ে বিক্রি করছিল এক বিক্রেতা। পাশেই বস্তি এলাকা হওয়ায় অনেকেই ভ্যান ঘিরে এবং আশপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। কেউবা বেলুন কিনছিল। এ সময় হঠাৎ করে বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে যোগ দেয়।

ওই ব্যক্তি ভ্যানগাড়িতে বেলুন বিক্রি করতেন। বেলুনে বাতাস ভরার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ভ্যান গাড়িটিও খণ্ড খণ্ড হয়ে গেছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিহত এক শিশুর অভিভাবক জানান, তার বোনের মেয়ে বাবার কাছে বেলুন কেনার বায়না ধরলে তার বাবা তাকে টাকা দিয়ে বেলুন কিনতে পাঠান। কিছুক্ষণ পরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে এসে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক বলেছেন, রূপনগরের বিস্ফোরণের ঘটনায় আমাদের এখানে পাঁচ শিশুর মরদেহ এসেছে। আহতাবস্থায় এসেছে পাঁচজন। এদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে প্রথম ১৪ জনকে হাসপাতালের জেনারেল বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একজন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বলেছেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢামেকে ভর্তি হওয়া এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুজনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম আছে। অন্যদের শরীরেও জখম রয়েছে।

জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ১০-১২টি শিশু রয়েছে। তাদের ‘কারও হাত নেই, কারও পা নেই, কারও নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে। কারও চেহারা ঝলছে গেছে। ঘটনার সময় নিহতদের পাশাপাশি আহত শিশুরাও মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল। যে মানুষই এমন দৃশ্য দেখেছে, তার বুক আঁতকে উঠেছে। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য আমরা আর দেখতে চাই না। সন্তানের লাশ বাবা-মার জন্য অত্যন্ত করুণ একটি অধ্যায়। এজন্য শিশুদের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে যারা বেলুন বিক্রি করেন, তারাসহ বেলুন কেনার সময় অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়া উচিত।