আমবাগানে পাখির বাসা

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আমবাগানে পাখির বাসা

হাইকোর্টের অনন্য নির্দেশ

সম্পাদকীয় ৮:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৯

print
আমবাগানে পাখির বাসা

প্রকৃতির মাঝেই পাখির নিবাস, গাছের ডালে পরম মমতায় পাখিরা সাজিয়ে তোলে নিজেদের আপন নীড়। কিন্তু তাদের এ মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে জীবজগতে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতার দাবিদার মানুষই বড় বাধা হয়ে ওঠে। মানুষের অত্যাচারে পাখিরা তাদের বাসস্থানের নিরাপত্তাও পায় না।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামে একটি আমবাগানে থাকা পাখির বাসাগুলো ভাঙা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই এলাকা কেন অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন আদালত।

দুজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল গত বুধবার এ আদেশ দেন। এর আগে একটি দৈনিকে ‘পাখিদের উচ্ছেদে ১৫ দিন সময় দিলেন বাগানমালিক’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটি আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার আর্জি জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায়। প্রতিবেদনটি তিনি আদালতে পড়েও শোনান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন একজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল। ঘোষিত আদেশে আদালত অভয়ারণ্য ঘোষণার কারণে বাগানমালিক বা ইজারাদারের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, নিরীক্ষা করে ৪০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত বলেছেন, পাখির বাসাগুলো কখনই ভেঙে দেওয়া যাবে না। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামে হুমকির মুখে পড়েছে কয়েক হাজার শামুকখোল পাখি। এখানকার একটি আমবাগানে ২৫টি গাছে কয়েক হাজার পাখির বাসা। সব বাসাতেই রয়েছে ছানা; এখনো উড়তে শেখেনি ছানাগুলো।

অন্যদিকে বাগানমালিক আমবাগান পরিচর্যার জন্য এসব পাখির বাসা ভাঙতে চান। পাখিপ্রেমীদের প্রতিরোধের মুখে গত মঙ্গলবার ১৫ দিন সময় নিয়েছেন তিনি। এ সময়ের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা না হলে পাখির বাসাগুলো ভেঙে দেবেন। চার বছর ধরে পাখিগুলো বাচ্চা ফোটাচ্ছে এই বাগানে। বর্ষার শেষে এসে বাচ্চা ফুটিয়ে শীতের শুরুতে আবার চলে যায় তারা।

স্থানীয়রা জানান, পাখির বাচ্চাগুলো উড়তে শিখতে অন্তত আরও এক মাস সময় লাগবে। বন অধিদফতর আমগাছের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য একটি প্রকল্প করার ঘোষণা দিয়েছিল। পরে আর সাড়া দেয়নি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পাখির বাসা ভাঙলে মারা পড়বে কয়েক হাজার পাখির বাচ্চা। পাখির প্রতি মমতা প্রদর্শন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই আমরা হাইকোর্টের এ নির্দেশের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।