বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট

শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকুক

সম্পাদকীয় ১০:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৯

print
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট

আমাদের দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন সংকট যেন নিত্যসঙ্গী। সেই সঙ্গে শিক্ষার পরিবেশ বজায় না থাকায় উচ্চ শিক্ষার প্রসারের জন্য তৈরি এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষা নয় বরং নানাবিধ দুর্নীতি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের জন্যই গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে। চলতি বছর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট অস্থিরতা যেন কাটছেই না। বিশেষ করে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট দূরীভূত হওয়ার মতো কার্যকর কোনো সমাধান চোখে পড়ছে না, সেই সঙ্গে রাজধানীর অদূরে অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে বর্তমানে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, হলগুলোতে গণরুম বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে প্রথম বর্ষ থেকেই সিট বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ আশ্বাসে গণরুম ছেড়ে ভিসির বাসভবনে ওঠার পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. আখতারুজ্জামান বলেছেন, আমরা গণরুম বন্ধের দাবির সঙ্গে একমত। শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। তবে দীর্ঘদিনের জঞ্জাল একদিনে সরানো সম্ভব নয়।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে একজন ডাকসু সদস্যের নেতৃত্বে গণরুম সংকট সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না দেখে ভিসির বাসভবনে ওঠার সিদ্ধান্ত নেয় গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীরা। উঠতে গেলে প্রশাসনের বাধার মুখে ১৯ শিক্ষার্থী ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় ‘প্রথম বর্ষে বৈধ সিটের অধিকার চাই’, ‘হলের সংখ্যা বৃদ্ধি কর, অতঃপর ছাত্র ভর্তি কর’, থাকার জন্য জায়গা চাই, গণরুমে ঠাঁই নাই’, ‘আমরা এখন চুপসে গেছি, জ্ঞানশূন্য কালোমাছি’-ইত্যাদি স্লোগান লেখা ফেস্টুন দেখা যায় তাদের হাতে। এ সময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আবাসন সংকটের কারণে প্রতিটি হলেই সৃষ্টি হয়েছে গণরুম। সেখানে প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়। এসব সিটও নিয়ন্ত্রণ করেন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

এদিকে দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘট আর টানা অবরোধে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আমরা এ দুটো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজমান সংকটগুলোর সমাধান চাই। শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থে এক্ষেত্রে সরকার যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে আমাদের সেটিই কাম্য।