হুমকির মুখে ব্যাটারি শিল্প

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

হুমকির মুখে ব্যাটারি শিল্প

এখনই উদ্যোগ নিন

সম্পাদকীয় ৮:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৯

print
হুমকির মুখে ব্যাটারি শিল্প

বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ব্যবসা করতে হয়। এক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো বিভিন্ন দেশে তাদের ব্যবসা প্রসারের জন্য অনেক বড় পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হয়ে থাকে, সে তুলনায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার স্বার্থে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিজেদের দেশের ব্যবসায়ীদের উন্নতির স্বার্থেই কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় যা আমাদের ব্যাটারি শিল্পের ক্ষেত্রে এখনো অনুপস্থিত দেখা যাচ্ছে।

খোলা কাগজে প্রকাশ, প্রতি বছর দেশের চারটি কোম্পানি বিদেশে ব্যাটারি রপ্তানি করে প্রায় সাড়ে সাত কোটি ডলারের (প্রায় ৬০০ কোটি টাকা) বেশি আয় করে। ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ বাজার প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার। কিন্তু এর ৬০ ভাগই চীনের ২২টি অবৈধ প্রতিষ্ঠানের দখলে। ফলে হুমকির মুখে দেশি ব্যাটারি শিল্প। জানা গেছে, দেশের চারটি কোম্পানি বছরে ১৫ লাখেরও বেশি ব্যাটারি রপ্তানি করে। কিন্তু দেশের বাজারে তাদের বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। ব্যাটারি প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি জানাচ্ছে, অবৈধ চীনা কোম্পানির দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে দেশের ব্যাটারি শিল্প মহাসংকটে পড়বে। দেশের বাজার চলে যাবে সম্পূর্ণই বিদেশিদের হাতে। বিশাল অঙ্কের রপ্তানি আয় কমে যাবে।

উদ্যোক্তাদের দাবি, দেশে অবৈধভাবে ব্যবসা করছে চীনের ২২টি ব্যাটারি কোম্পানি। দেশীয় ব্যাটারি ব্যবসায়ীরা সরকারের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করা সত্ত্বেও এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা যাচ্ছে না। মূলত চীনের এসব কোম্পানি ছোট ছোট কারখানা ভাড়া করে অবৈধভাবে ব্যাটারি নির্মাণ করছে। বর্তমানে চারটি দেশি কোম্পানিসহ বিদেশি ২২টি কোম্পানি ব্যাটারি উৎপাদন করছে। দেশীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদিত ব্যাটারির অর্ধেকই বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০টি দেশে রপ্তানি করছে চারটি কোম্পানি।

ব্যবসায়ীরা জানান, পুরনো ব্যাটারি প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হয় নতুন ব্যাটারি। দেশে অবৈধ কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান পুরনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে যত্রতত্র প্রক্রিয়াজাত করছে। এর ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি বৈধ কোম্পানিগুলো পড়ছে হুমকিতে। ব্যাটারি প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি বলছেন, বিদেশে রপ্তানি করে দেশীয় চারটি কোম্পানি প্রতি বছর প্রায় সাত কোটি ডলার আয় করে। কিন্তু চীনের অবৈধ কোম্পানিগুলোর কারণে দেশীয় ব্যাটারি শিল্প আজ হুমকির মুখে। আমরা আশা করব সরকার বিশ^ বাজারের তুলনায় আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনা করে অবশ্যই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।