এমপি পদে থেকে জালিয়াতি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

এমপি পদে থেকে জালিয়াতি

নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত থাকুক

সম্পাদকীয় ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৯

print
এমপি পদে থেকে জালিয়াতি

সমাজে বসবাসের ক্ষেত্রে নৈতিকতা অনুসরণ করা হয় বলেই এ সমাজব্যবস্থা আজও টিকে আছে। জীবনের নানা পর্যায়েই আমাদের বিবিধ অনুষঙ্গে যে সামাজিক মর্যাদার বিষয়গুলো জড়িত, সেক্ষেত্রে নৈতিকতার মূল্যায়ন অবশ্যম্ভাবীভাবে জড়িত হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নৈতিকতা ও সামাজিক অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, জালিয়াতির মাধ্যমে বিএ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের এক এমপির সব পরীক্ষা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তাকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)। গত রোববার বাউবি ভিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এ সদস্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ পরীক্ষায় নিজে অংশ না নিয়ে পরপর ৮টি পরীক্ষায় তার পক্ষ থেকে অন্য পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শেষ দিনের পরীক্ষা দিতে গিয়ে হলে একজন হাতেনাতে ধরা পড়ে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। উচ্চশিক্ষার সার্টিফিকেট লাভের আশায় প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার এ ঘটনায় বিষয়টি অনুসন্ধানে কলেজের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এমপি এইচএসসি পাস। উচ্চশিক্ষার সার্টিফিকেট লাভের আশায় তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি হন। এ পর্যন্ত চারটি সেমিস্টারের ১৩টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে ১৩টি পরীক্ষার একটিতেও সশরীরে অংশ নেননি তিনি। তার পক্ষে একেক সময় একেকজন অংশ নিয়েছে। আর এমপির প্রক্সি প্রার্থীকে সুবিধা দিতে পরীক্ষা কেন্দ্রসহ হল পাহারায় থাকতেন এমপির লোকজন ও ক্যাডার বাহিনী। তাই ভয়ে ছাত্র-শিক্ষক কেউই মুখ খুলতে পারেন না। সর্বশেষ গত শুক্রবার পরীক্ষা দিতে এসে প্রক্সি পরীক্ষার্থী হাতেনাতে ধরা পড়েছেন।

কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন। একজন এমপি হয়েও পরীক্ষায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুরো এমপি পদটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও নৈতিকতাবিদ্ধ করে ফেলেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন উঠেছে, যারা সংসদে তাদের জন্য আইন প্রণয়ন করেন তাদের নৈতিকতা যদি এমন হয়, তাহলে তাদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে অপ্রত্যাশিত বার্তাই যায়। আর আইনপ্রণেতা হিসেবে সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে জাতি আরও নৈতিকতা ও তাদের অধিকার পূরণে কাজ করা প্রত্যাশা করে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এটি সব সংসদ সদস্যের মনে রাখা উচিত।