গুজবের কারণে ঝরল প্রাণ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গুজবের কারণে ঝরল প্রাণ

সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন

সম্পাদকীয়-১ ১০:২২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৯

print
গুজবের কারণে ঝরল প্রাণ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাটি ঘটেছে তা আমাদের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিশেষ করে একটি গুজবের বিনিময়ে চারটি প্রাণ ঝরে পড়া নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক। এ ঘটনাটি আমাদের সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার ও সমাজে এর প্রভাবের ক্ষেত্রে যে অধিক সতর্কতা প্রয়োজন, সেটি জানান দিয়ে গেল। কেননা অতীতেও এ ধরনের গুজবের ভিত্তিতে সামাজিক বিশৃঙ্খলার ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে।

পত্রিকায় প্রকাশ, ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথোপকথনে ধর্ম অবমাননা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে গত রোববার ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশ থেকে জনতা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালালে চারজন নিহত হন। নিহত চারজনকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে তৌহিদী জনতা। সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ দেড় শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

পুলিশের ভাষ্য, যে ব্যক্তির ফেসবুক মেসেঞ্জারের কথোপকথন ঘিরে এ ঘটনা ঘটে, সেটি হ্যাকড হয়। কটূক্তিপূর্ণ কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রমতে, মেসেঞ্জারের সেই কথোপকথনটি স্থানীয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেদিন বিকেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোলার বোরহানউদ্দিন থানায় যান এবং তার ফেসবুক আইডি হ্যাকড হতে পারে উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করেন। তারপর অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতে রেখে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসন ও পুলিশ উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, এরপরও একটি গোষ্ঠী বিষয়টি উস্কে দিতে থাকে। ১৯ অক্টোবর রাতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তারা স্থানীয় ইমাম ও ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু, রোববার সকালে একদল ব্যক্তি মঞ্চ বানিয়ে সেখানে ১৭টি লাউডস্পিকার বসায়। তাদের একটি অংশ পরে সহিংস হয়ে ওঠে। খুব দ্রুত সেখানে ৩০-৪০ হাজার লোক সমবেত হন। পুলিশ তাদের শান্ত হতে বললে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ কাছাকাছি একটি রুমে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তারা সেই রুমের দরজা আংশিকভাবে ভেঙে ফেললেও পুরোপুরি ভাঙতে পারেনি। পুলিশের ভাষ্যমতে গুলি করা ছাড়া আর কোনো সুযোগই ছিল না।

অতীতের ঘটনার ধারাবাহিকতায় সার্বিক দিক বিবেচনা করে বোঝা যাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যারা এ মাধ্যমে গুজব ছড়াবে তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারকে প্রয়োজনে আরও কঠোর হতে হবে। আমরা গুজবের ভিত্তিতে এরকম অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু আর দেখতে চাই না। এক্ষেত্রে ফেসবুক ব্যবহারের গঠনমূলক কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার যথাযথ ভূমিকা রাখবে আমরা সেটিই প্রত্যাশা করি।