ডেঙ্গুর ঝুঁকি কাটেনি

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ডেঙ্গুর ঝুঁকি কাটেনি

সচেতনতার বিকল্প নেই

সম্পাদকীয়-১ ৯:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

print
ডেঙ্গুর ঝুঁকি কাটেনি

ডেঙ্গু জ্বর চলতি বছরে দেশকে ব্যাপক মাত্রায় ভুগিয়েছে। প্রায় মহামারীর পর্যায়ে চলে যাওয়া এ ঘাতক ব্যাধিটি চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের অসচেতনতার মাত্রাটুকু দেখিয়ে দিয়েছে। এরপরও টনক নড়েনি, সেটা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যেমন অসচেতনতার পর্যায়ে রয়ে গেছে তেমনি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও আশানুরূপ পরিবর্তন দৃষ্টিগোচর হয়নি। অথচ মৃত্যুর মিছিলে ঝরে গেছে অনেক প্রাণ, আর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় দিন কেটেছে, কাটছে অসংখ্য রোগাক্রান্ত মানুষের। এ নিয়ে সংকটের আকাশে জমে থাকা মেঘ এখনো কাটেনি।

খোলা কাগজে প্রকাশ, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। গত এক সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আড়াইশ’র বেশি মানুষ। এদিকে ডেঙ্গুর আশঙ্কা পুরোপুরি না কাটলেও রাজধানীর মশক নিধন কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। যেটাকে বিপদ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সারা বছর মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। যদি কোনো কারণে মশক নিধন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়, তাহলে আগামী বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এমন পরিস্থিতি থেকে রক্ষার জন্য আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। তাদের মতে, এখন যে স্থানে মশায় ডিম পাড়ছে সেই স্থানগুলো যদি ধ্বংস করা না হয়, তাহলে আগামীতে বৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ডিম থেকে আবার বাচ্চা ফুটবে এবং ছড়িয়ে পড়বে। যে কারণে এখন ডেঙ্গু প্রতিরোধ না করলে সামনে বিপদ আছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে ১ হাজার ৭৮১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৯৩ হাজার ৩৬১ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ভর্তি হয়েছেন ৩৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৮ জন, মার্চে ১৭ জন, এপ্রিলে ৫৮ জন, মে ১৯৩ জন, জুন ১৮৮৪, জুলাই ১৬২৫৩, আগস্ট ৫২৬৩৬ জন, সেপ্টেম্বরে ১৬৮৫৬ এবং অক্টোবরে ৫৪০৮ (১৯ দিনে) আক্রান্ত হয়েছেন।

বিগত ১৮ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে এ বছর ৯৩ হাজারেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সরকারি হিসাবে নিহত হয়েছেন ৯৮ জন আর বেসরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। প্রাকৃতিক কারণে বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কমলেও এখনো অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন।

ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কমার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর দুই সিটিতে মশা নিধন কর্মসূচিতে ভাটা পড়েছে। তবে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ডেঙ্গু নিধন কার্যক্রমে কোনোক্রমেই শৈথিল্য দেখানো যাবে না। সারা বছরই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারকে তৎপর থাকতে হবে। সারা বছরই মশক নিধন অব্যাহত রাখতে হবে।