আবাসিকে গ্যাস সংযোগ

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ

পুনর্বিবেচনা করুন

সম্পাদকীয় ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

print
আবাসিকে গ্যাস সংযোগ

গ্যাস আমাদের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় এক অনুষঙ্গ। বিশেষ করে গৃহস্থালিতে প্রতিদিনই রান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহৃত হয়। তাই আবাসিক খাতে গ্যাস ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনাও করা যায় না। অথচ নিভু নিভু গ্যাস অথবা কম গতির গ্যাস কিংবা গ্যাসহীন অবস্থায় মাটির চুলা ব্যবহার করা এ শহরের অনেক ফ্ল্যাটবাড়িতে নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দেখা দিয়েছে। এসবের পেছনে গ্যাস সংকটের কথা বলা হয়। আবার এ সংকট নিরসনে যে উদ্যোগ নেওয়া হয় তা জনস্বার্থের জন্য কল্যাণকর কি-না, সে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থেকে যায়।

খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানীতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হলেও সরকার সিলিন্ডার (এলপিজি) গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর নীতি নিয়েছে। এলপিজির মূল্য নির্ধারণে নীতিমালা না থাকায় এ থেকে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো লাভ করছেন। এতে গ্রাহকের যেমন খরচ বাড়ছে তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলপি ব্যবসায়ীদের স্বার্থেই আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে এই অনুৎসাহ।

গ্যাস নেই এই যুক্তিতে একসময় নতুন সংযোগ বন্ধ করা হয়েছিল, সেখান থেকে পরিস্থিতির বদল হয়েছে। তাই ইচ্ছে করলেই সরকার পাইপলাইনের মাধ্যমে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রায় ৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহক সংখ্যা ৪০ লাখ। এ খাতে দিনে ৪৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় গত কয়েক বছরে বিতরণ কোম্পানিগুলোতে নতুন সংযোগের জন্য এক লাখের ওপর আবেদন জমা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এলএনজি আমদানির প্রেক্ষাপটে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় যেসব স্থানে পাইপলাইন রয়েছে সেখানে আবাসিকে নতুন সংযোগ হবে। এর অল্পদিনের মধ্যে আবাসিক, সিএনজি ও বাণিজ্যিকে নতুন করে গ্যাস সংযোগ বন্ধের নির্দেশনা জারি করে জ্বালানি বিভাগ।

সাশ্রয়ী প্রমাণিত হওয়ার পরও দ্রুত বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ বন্ধের পেছনে ষড়যন্ত্র দেখছেন সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা। আগে আমাদের গ্যাস অপর্যাপ্ত ছিল। কিন্তু বিভিন্নভাবে আমদানির কারণে সে সংকট কাটানো সম্ভব হয়েছে। তাই নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাই।