মোবাইল ফোন কোম্পানির স্বেচ্ছাচার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মোবাইল ফোন কোম্পানির স্বেচ্ছাচার

শুভবুদ্ধির উদয় হোক  

সম্পাদকীয় ১০:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

print
মোবাইল ফোন কোম্পানির স্বেচ্ছাচার

আমাদের বর্তমান জীবন বাস্তবতায় মোবাইল ফোন এক অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে মোবাইল সবার কাছে পৌঁছে গেলেও কাক্সিক্ষত সেবা থেকে আজও বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক। নেটওয়ার্ক সমস্যা থেকে শুরু করে কলড্রপসহ নানাবিধ প্যাকেজের নামে গ্রাহকের টাকা কেটে নেওয়া ও ইন্টারনেটের ধীরগতির অভিযোগ এখন হরহামেশাই তোলা হচ্ছে মোবাইল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে।

খোলা কাগজে প্রকাশ, দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি গ্রাহক থাকায় মিলছে না কাক্সিক্ষত সেবা। চটকদার প্যাকেজের নামে প্রতারণা, দুর্বল নেটওয়ার্ক ও কলড্রপ, ভুতুড়ে সেবায় টাকা কেটে নেওয়া, রাত-বিরাতে প্রমোশনাল এসএমএস, ইন্টারনেট সেবায় চরম স্বেচ্ছাচারিতা- এ রকম অভিযোগের পাহাড় গ্রাহকদের। দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৩ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর সক্রিয় সিমের সংখ্যা সাড়ে ১৫ কোটি। এ বিপুলসংখ্যক গ্রাহকই মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কাছে জিম্মি। বাজে ও নিম্নমানের সেবা দেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, আবার সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করছে না। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- তাহলে এসব কোম্পানিগুলো কি তবে আইন-আদালত, নিয়ম-নীতির ঊর্ধ্বে।

বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকের অভিযোগ দিনে দিনে বাড়ছে। অধিদফতরে জমা হওয়া অভিযোগের ৬৫ শতাংশের বেশি এ সব কোম্পানির বিরুদ্ধে। প্রতারণা বন্ধে সর্বোচ্চ আদালত থেকে নানা নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু কিছুতেই শুধরায়নি তারা। ফোন কোম্পানিগুলো জনগণকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেবা দিচ্ছে কি-না তা দেখার দায়িত্ব সরকারি সংস্থা বিটিআরসির। কিন্তু ফোন কোম্পানিগুলোর শক্তির সঙ্গে পেরে উঠছে না সরকারের এই সংস্থাটি। বর্তমানে দুটি কোম্পানির কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাচ্ছে সরকারের এই সংস্থাটি। যে কারণে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মানুষের হাজারো অভিযোগ থাকলেও এগুলো বলার উপযুক্ত জায়গা পাচ্ছে না। ফোন কোম্পানিগুলো এদেশে এখন ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির চেয়ে বেশি দাপট দেখাচ্ছে। তারা এতই দাপট দেখাচ্ছে যে, সরকারের পাওনা টাকা দিতে চাচ্ছে না। সব শেষ দুটি মোবাইল কোম্পানিতে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

একটি দেশে সরকারের চেয়ে কেউ শক্তিশালী নয়। সেই সরকারকে যদি মোবাইল কোম্পানির কাছ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে এভাবে নাকানি-চুবানি খেতে হয়, তাহলে জনগণ যদি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রতিশ্রুত সেবা না পায় তাহলে তারা কী করতে পারেন। আমরা আশা করব গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনা করে যথাযথ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর শুভবুদ্ধির উদয় ঘটবে। এক্ষেত্রে জনস্বার্থ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে, সে প্রত্যাশাও রইল।