একজন মুক্তিযোদ্ধার আত্মহত্যা

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

একজন মুক্তিযোদ্ধার আত্মহত্যা

মানবিকতার জাগরণ ঘটুক

সম্পাদকীয়-১ ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

print
একজন মুক্তিযোদ্ধার আত্মহত্যা

নশ্বর পৃথিবীতে ক্ষণিকের এ জীবনে সমাজে বাস করেও মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে যায়। জীবনধারণের জন্য তুমুল প্রতিযোগিতার মাঝে নিজের পরিচয়টুকু নিশ্চিত করার জন্য কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয় তা সমাজবদ্ধ মানুষমাত্র জানেন। পৃথিবীর নিয়মটা বড্ড কঠিন। এ সমাজে সবাই অর্থনৈতিক কাঠামোর বৃত্তে থাকা পরিচয়টুকুকেই সম্মান করতে চায়, কিন্তু জীবন চলার পথে কখনো সব হারিয়ে ফেললে তখন পাশে অনেক আপনজনকেও পাওয়া যায় না আর এটাই যেন স্বার্থপর এ সমাজের অমোঘ নিয়তি হয়ে গেছে।

খোলা কাগজে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা ড. জাহিদ হোসেন প্রধান। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেন। স্বাধীনতার পর দেশগঠনেও অবদান রাখেন এই বিজ্ঞানী। ‘জুট জিও টেক্সটাইল’ আবিষ্কারের অবদান হিসেবে পান রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নিয়ে লিখেছেন, সম্পাদনা করেছেন বই। ছিলেন উদ্যমী একজন সংগঠক। আবাসন ব্যবসায় নেমে রাজধানীতে নির্মাণ করেন বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন। অথচ গত চার বছর তাকে ঠাঁই নিতে হয়েছিল অফিস কক্ষে। আজীবনের এই যোদ্ধাকে শেষটায় হার মানতে হয়েছে জীবনযুদ্ধে।

ঋণের বোঝা, পরিবারের অসহযোগিতা, কাস্টমস কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ- নিঃসঙ্গতা, হতাশা আর অপমানের হাত থেকে বাঁচতে বেছে নেন আত্মহত্যার পথ। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডির ৪ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন জাহিদ প্রধান। ১৯৯২ সাল থেকে ফ্ল্যাটটিই তার আবাসন কোম্পানি আর্কেডিয়া প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ২০১৫ সালে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে এই অফিসেই নিঃসঙ্গ বসবাস করছিলেন জাহিদ।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, তিনি জীবনের শেষ সময়ে পরিবারের কারও কাছ থেকেই সহযোগিতা পাননি। আর রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত একজন বিজ্ঞানী হওয়ার পরও তাকে এমন নির্মমভাবে ঋণের দায়ে মৃত্যুবরণ করতে হলো। আমরা কেমন সমাজে বাস করি তার এক নির্মম উদাহরণ হয়ে থাকল এ আত্মহত্যার ঘটনাটি। আত্মহত্যাকে আমরা কিছুতেই সমর্থন করতে পারি না, কিন্তু মানুষ যেন হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার দিকে না এগোয় সামাজিক মানুষ হিসেবে আমাদের সেটি নিশ্চিত করাও অতীব জরুরি।