শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা বাড়ছে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা বাড়ছে

সতর্ক হতে হবে সবাইকে

সম্পাদকীয় ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

print
শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা বাড়ছে

উচ্চশিক্ষার ফলে একটি জাতি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়, এ জন্য সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীলতা জাতির জন্য খুব জরুরি। কেননা দেশকে অশান্ত করার জন্য সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোকে অস্থির করার চক্রান্ত অতীতে হয়েছে এবং সে ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কী না সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।

খোলা কাগজে প্রকাশ, দেশের শিক্ষা খাতকে সুসংহত এবং মজবুত করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও চলতি বছরের শুরু থেকে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা লক্ষ করা গেছে। বছরের মাঝামাঝি সময়ে এর সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন আরও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। একেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতার কারণ আলাদা হলেও অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অস্থিরতা বিরাজমান, মাঝে মধ্যে তা বাড়ছে। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম, আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে সেশনজট বাড়ার। এমন পরিস্থিতির কারণ এবং সমাধানের উপায় এখনই ভেবে দেখা দরকার বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

সম্প্রতি বুয়েটে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে এক ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি ও ফলশ্রুতিতে ভিসির পদত্যাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা থেকে ভিসি কোটি টাকা ছাত্রলীগ নেতাদের ঈদ বোনাস হিসেবে দিয়ে দেওয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিরকুটে ভর্তি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি না থাকায় ভর্তি কার্যক্রমে স্থবির হয়ে পড়ায় ভিসি নিয়োগ দাবিসহ বিভিন্ন ঘটনায় বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। এছাড়াও চলতি বছরের শুরু থেকে থেমে থেমে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন কারণে অস্থির হয়ে ওঠে। কেন শিক্ষাঙ্গনগুলোয় এই অস্থিরতা, পেছন থেকে কোনো শক্তি কলকাঠি নাড়ছে কিনা তা ভেবে দেখা উচিত বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিষয়গুলো সরকারকে গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা আরও বলছেন, শিক্ষকদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি, শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অভাব, প্রশাসনের দুর্বলতা, বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট, নৈতিক মূলবোধের অভাব প্রভৃতি কারণেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক ধরনের অরাজকতা চলছে। এতে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লেখাপড়া। কমে যাচ্ছে শিক্ষার মান।

এদিকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে সুশাসন ফেরাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) আইন প্রয়োগে কঠোর হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এমন সতর্ক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে দূরদর্শিতার পরিচয়। কেননা শিক্ষাঙ্গনে স্থিরতা বজায় রাখার স্বার্থে সরকারের গভীর মনোযোগের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করব সরকার দেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়নের কথা চিন্তা করে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য করণীয় কর্তব্যটুকু বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে দ্বিধা করবে না।