কৃষিঋণে তারল্য সংকটের আঘাত

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কৃষিঋণে তারল্য সংকটের আঘাত

সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা জরুরি

সম্পাদকীয়-১ ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

print
কৃষিঋণে তারল্য সংকটের আঘাত

আমাদের দেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট যেন অনিবার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। গত অর্থ-বছরজুড়ে ব্যাংক খাতকে এই তারল্য সংকট অতিক্রম করতে হয়েছে। এবারের নতুন অর্থবছরও তারল্য সংকট দিয়ে শুরু হয়েছে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের কথা শোনা গেছে। এদিকে ব্যাংকিং খাতের এ সংকট কৃষিঋণকেও স্পর্শ করেছে। খোলা কাগজে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, এ বছর তারল্য সংকট গতবছরের চেয়ে তীব্র আকার ধারণের কারণে ঋণ বিতরণে এর ছোঁয়া লেগেছে।

ঋণ বিতরণের পাশাপাশি আদায়েও তারল্যের ছোঁয়া লেগেছে। তবে ঋণ বিতরণের এই হ্রাসকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, বছর সবে শুরু। মাত্র তিন মাস পার হয়েছে। আগামী মাসগুলোতে বিতরণের এ হার বাড়বে, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তবে কৃষিঋণ বিতরণের এ বিষয়কে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ব্যাংকের অন্য একটি সূত্র। তাদের মতে, এবার উত্তরাঞ্চলে বন্যায় কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকরা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন। এ কারণে কৃষিঋণের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। কিন্তু উল্টো কমে যাওয়া এবং একই সঙ্গে কম আদায় হওয়া মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। তাদের মতে, ব্যাংকগুলো কৃষিঋণ দিতে না পারার কারণে কৃষিঋণ কমে যেতে পারে বলে মনে করেন আর্থিক খাতের ওই সূত্রটি।

কৃষকরা কম পরিমাণে ঋণ নেন, এ ঋণে সুদহার বেঁধে দেওয়া হয়েছে, পরিচালন ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষিঋণ বিতরণে অনীহা দেখায়। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের দুই শতাংশ কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হবে। যেসব ব্যাংকের শাখা কৃষকের নাগালের মধ্যে নেই সেসব ব্যাংককে এনজিওর মাধ্যমে বিতরণ করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। গত কয়েক বছরে এর ফলাফলও ভালো হয়েছে। কিন্তু গত বছর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে থাকায় কৃষিঋণ বিতরণ কমিয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব এ বছরও পড়েছে।

কৃষি যেহেতু আমাদের জীবনধারণের প্রধান উপকরণ খাবারের জোগান দেয় তাই কৃষক যেন কৃষিঋণ পায় সেদিকে সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংকে তারল্য সংকটের জন্য যেসব ঋণখেলাপি দায়ী, তাদের বিষয়েও সরকারের কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।