বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্বলতা

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্বলতা

শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতে শক্ত হোন

সম্পাদকীয় ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

print
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্বলতা

দেশের সব কিছুই যখন উন্নতির দিকে তখনো গরমিল-গোঁজামিলের শেষ নেই। দেশের সাধারণ নাগরিকরা জীবনযাপনের তাগিদ ছাড়া বেশি কিছু নিয়ে না ভাবলেও উদ্বিগ্ন সচেতন মহল। খুন-ধর্ষণ-লুটপাট এক নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে খবরেরও শেষ হচ্ছে না। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে ঘাটে ঘাটে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্বল প্রশাসন এবং ক্ষমতাবানদের অনিয়মের দৃষ্টান্ত প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই পরিলক্ষিত হচ্ছে। যে কারণে পড়ালেখার পরিবেশ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন অভিভাবকরা। সবাই চায় অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ যেন নির্মল থাকে। কিন্তু তা আর হচ্ছে কোথায়!

খোলা কাগজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক জরিপে বিশ্বসেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান হয়নি আমাদের ‘অক্সফোর্ডে’র অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই প্রতিষ্ঠানসহ বিদ্যামান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং ইউজিসির কর্মপরিধি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নতজানু নীতি এবং সুবিধাবাদী মনোভাবই ধস নেমেছে শিক্ষাঙ্গনে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে দেশের নিমিত্তে যারা কাজ করবে তারা অনেকেই রাজনীতিতে জড়িত হয়ে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়েই চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করে বেড়াচ্ছে। এমনকি ক্ষমতাবানদের অত্যাচার-নির্যাতনে প্রাণ হারাচ্ছেন শিক্ষার্থী। এরপরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের টনক নড়ছে না।

প্রতিবেদনে বলছে, শুধু বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রশাসনই নয় বরং ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, বরিশাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন নানা কায়দায় তাদের দুর্বলতার প্রমাণ দিয়েছেন। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে নিযুক্ত কর্তাব্যক্তির নামেই দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আবার কারও রয়েছে নারীজনিত কেলেঙ্কারির অভিযোগ। সার্বিকভাবে দুর্নীতি, অনিয়ম পিছু ছাড়ছে না বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। এ জন্য যে রাজনৈতিক শক্তিও অনেকটা জড়িত, তাও সবার জানা। এখন সেগুলোর ভয়ানক চিত্র তথ্য আকারে সংবাদে প্রকাশিত হচ্ছে। যা দেখে আঁতকে উঠছে সবশ্রেণির মানুষ। বুয়েটের হলে খুনের মতো ঘটনায় এখন মুখ লুকানোর জায়গা পাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এত কিছুর পরও যদি প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ক্ষেত্রগুলোতে সুন্দর পরিবেশ না আনতে পারে তবে সে ব্যর্থতাও তাদেরই।

আমরা বলতে চাই, দুর্বলতা নয় বরং শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এগোতে হবে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। ক্যাম্পাসে খুনোখুনি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, নারী কেলেঙ্কারি স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এগুলো থেকে মুক্ত থাকতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা পেয়ে কোনো ছাত্র কিংবা ব্যক্তিপর্যায়ের লোক যেন ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি না করতে পারে সে ব্যাপারেও সজাগ থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ইউজিসিকে দুর্বল হলে চলবে না। আমরা চাই প্রতিটি প্রশাসন আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুন্দর রাখুক।