স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কোমলমতিরা

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কোমলমতিরা

নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করুন

সম্পাদকীয়-১ ৯:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

print
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কোমলমতিরা

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিশুর উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জন্মের পর টিকাদান কর্মসূচি থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া বিনামূল্যে করানো হচ্ছে। এরপরও অনেক ক্ষেত্রেই ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুটি পর্যাপ্ত খাবারের অভাব এবং অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। বাস্তুচ্যুত হয়ে অনেকেই ভ্রাম্যমাণ জীবনযাপন করছে, যার বড় ভুক্তভোগী শিশুরা। এখনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে অবহেলা-অযত্নে ঝরে যাচ্ছে শিশুর ভবিষ্যৎ যা দেশের জন্য নেতিবাচক বিষয়।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমাদের দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৪৫ শতাংশেরও বেশি এখনো পুষ্টিহীন বা অতিরিক্ত ওজন ও গুরুতর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদন বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য, নগরায়ণ এবং চিনি ও চর্বিযুক্ত খাদ্যাভ্যাসের জন্যই শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। হিসাব অনুযায়ী আমাদের দেশে এক কোটি ৯০ লাখেরও বেশি শিশু জলবায়ু পরিবর্তন বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্যার ভয়াবহতা ও নদীভাঙনের ফলে পরিবারগুলো শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। এসব বস্তিতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিষেবা না থাকায় পর্যাপ্ত খাবারের অভাবসহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বেশির ভাগ শিশু।

সার্বিক দিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, দেশে শিশুদের জন্য এখনো নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বরং শিশুগুলো প্রতিনিয়ত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। খুন-ধর্ষণের মতো অপকর্মের শিকার হওয়া ছাড়াও পেটভরে দুবেলা খাবারের অপেক্ষায় রাস্তায় দিনরাত পার করছে অনেক শিশু। পথশিশুর সংখ্যাও কম নয়। অথচ এদের তদারকির জন্য নেই তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ। কিন্তু দেশে জনসংখ্যার আধিক্য থাকলেও সবার দেখভাল করা দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবানদের। আর এই দায়িত্ব তারাও এড়াতে পারেন না।

আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। যে কারণে তাদের বেড়ে ওঠা যথাযথ এবং নিরাপদ না হলে আগামীও সুন্দর হবে না। তাই সরকার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, দাতব্যপ্রতিষ্ঠানসহ অভিভাবকদেরও শিশুর উন্নয়নের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। কোনো শিশু যেন সুবিধাবঞ্চিত না হয় সে খেয়াল রাখতে হবে সরকার সংশ্লিষ্টদের। সেই সঙ্গে শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে শিশুদের মুক্ত রাখতে হবে। দেশের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শিশুদের নিয়ে ভাবার বিকল্প নেই।