পোশাক রপ্তানি কমছে

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পোশাক রপ্তানি কমছে

এখনই সতর্ক হতে হবে

সম্পাদকীয়-১ ৯:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

print
পোশাক রপ্তানি কমছে

আমাদের দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান অনস্বীকার্য। বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের ক্ষেত্রে যুগ যুগ ধরে গার্মেন্ট শিল্প আমাদের রপ্তানি খাতকে সমৃদ্ধ করে চলেছে। সম্প্রতি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে যে অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে তা দেশের জন্য দুঃখজনক। এ অবনমন রোধে আমাদের এখনই সতর্ক হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কমছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ছোট আকারের কারখানা। এর ফলে কাজ হারাচ্ছেন শ্রমিকরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, চাহিদা কমা এবং পোশাকের দাম না বাড়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন এই তিন মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি তার আগের তিন মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ৭২ ভাগ কমেছে। এ বছরের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি ধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু আগস্ট-সেপ্টেম্বরে তা আর ধরে রাখা যায়নি।

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক খাতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২০ কোটি ডলার; যা গত বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৯১ ভাগ বেশি। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে এখন সংশয় দেখা দিয়েছে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহ ভাগই আসে তৈরি পোশাক থেকে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮৩ ভাগ আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮৪ ভাগই জোগান দিয়েছে এই খাত। বর্তমানে পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। এই বাজারের শতকরা ৬ ভাগই নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশের কারখানাগুলো। কিন্তু এই অবস্থান ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

দেশের কারখানাগুলো ক্রমশ কার্যাদেশ হারাচ্ছে বলে দাবি করে আসছেন মালিকরা। বাংলাদেশে ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে পোশাক কারখানার সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ৮৭৬টি, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৬২১টিতে। বিজিএমইএর তথ্য মতে, চার বছরে পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ১৮ শতাংশের মতো।

অন্যদিকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের দাম কমেছে গড়ে ৭ শতাংশ। পোশাকের চাহিদাও কমেছে ৮ শতাংশ। যার প্রভাব পড়েছে শিল্পে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের দেশের পোশাক খাতের রপ্তানি অবস্থানকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সরকারকে উদ্যোগী হয়ে যথাযথ কূটনৈতিক তৎপরতা নিশ্চিত করতে হবে।