পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত

অবসান ঘটুক অচলাবস্থার

সম্পাদকীয় ৯:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

print
পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত

দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। টানা দরপতনে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ছোটবড় বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে লেনদেন তলানিতে নেমে এসেছে। কড়াকড়ি এবং কর বাড়ানোর ফলে সঞ্চয়পত্র থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিলেও সেই অর্থ পুঁজিবাজারে কেউ বিনিয়োগ করছে না। এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন গত সোমবারও বড় দরপতন হয়েছে দুই বাজারে। এদিকে টানা দরপতনের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার মতিঝিলে ডিএসই ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। অর্থমন্ত্রী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসির চেয়ারম্যানের আশ্বাস এবং তারল্য সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ- কোনো কিছুতেই কোনো কাজ হচ্ছে না। বাজারে পতন চলছেই। লেনদেন শুরু হলেই সূচক পড়ছে। কমছে শেয়ারের দর। তালিকাভুক্ত কোম্পানির চার ভাগের এক ভাগের দর এখন অভিহিত মূল্যের (ফেস ভ্যালু, ১০ টাকা) নিচে।

বাজারের এই দশায় হতাশা প্রকাশ করে বিনিয়োগকারীরা জানান, দেশি-বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীরাই বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সবার মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। বাজার বোধহয় আরও পড়বে; ভয়ে বিক্রি করে দিচ্ছেন শেয়ার। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূলত তিনটি কারণে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। গ্রামীণফোনের শেয়ার নিয়ে বিটিআরসির সঙ্গে ঝামেলার সম্মানজনক সমাধান এখনো না হওয়ায় তাদের কাছে থাকা জিপির শেয়ার বিক্রি করে খালি করে দিচ্ছে। বাজারের টানা পতনে আতঙ্কিত হয়ে অন্য শেয়ারগুলোও বিক্রি করে দিচ্ছেন তারা।

আরেকটি কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক টাকার মান দুর্বল করে ডলার শক্তিশালী করতে শুরু করেছে। গত দুই-তিন দিনেই ২০ পয়সা কমিয়েছে। বাজারে গুজব আছে, এবার ডলার ৯০ টাকা পর্যন্ত যাবে। টাকার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হয়। সে কারণেও তারা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। আর অব্যাহত দরপতনে দেশি বা স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় ভুগছেন।

ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারী বুঝে উঠতে পারছেন না বাজার কোথায় গিয়ে শেষ হবে। দিশাহারা হয়ে পড়েছেন সবাই। এ অবস্থায় যে করেই হোক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আর সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসি, ডিএসই সবাই মিলে এ কাজটি দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে।