প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ হোক

সম্পাদকীয়-১ ৯:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

print
প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

প্রধানমন্ত্রী দেশে ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করণীয় সেসব নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে তিনি অপরাধীদের যথাযথ শাস্তির ব্যাপারে যে কঠিন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তা আমাদের আশাবাদী করে তোলে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে আবরার হত্যার বিচারসহ সব ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে যে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছেন তা অপরাধীদের জন্য হুঁশিয়ারিই বটে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার এই অবস্থানের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

পত্রিকায় প্রকাশ, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে কোন দল করে, কী করে, তা আমি দেখি না। অপরাধী অপরাধীই। তিনি বলেন, ‘আমি তো বলেছি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কে কোথায় আছে সব কয়টাকে গ্রেফতার করতে। একটা বাচ্চা ছেলে, ২১ বছর বয়স। তাকে হত্যা করা হলো। মারা হলো পিটিয়ে পিটিয়ে, কী অমানবিক! পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা দেখেছি। সব ইনজুরি ভেতরে। ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমি চেষ্টা করেছি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে তারা আমার পার্টির এটা আমি কখনই মেনে নেব না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি। তাদের বহিষ্কার করতে বলেছি, পুলিশকে বলেছি অ্যারেস্ট করতে। রাজধানীসহ সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হলে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ছাত্ররাজনীতির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নেতৃত্ব উঠে এসেছে ছাত্র নেতৃত্ব থেকে। রাজনীতি শিক্ষার ব্যাপার, ট্রেনিংয়ের ব্যাপার। আমি নিজেই ছাত্ররাজনীতি করে এসেছি। দেশের ভালো-মন্দের চিন্তা তখন থেকেই আমার তৈরি হয়েছে। এজন্য তিনি দেশের মানুষের ভালোমন্দ দেখতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন। তবে একটা ঘটনার (আবরার হত্যাকাণ্ড) কারণে পুরো ছাত্ররাজনীতিকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না। বুয়েট যদি মনে করে, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে পারে; এটা তাদের ব্যাপার। তবে ছাত্ররাজনীতি পুরোপুরি বন্ধের বিপক্ষে মত দেন তিনি।

আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অপরাধ দমনে আশাবাদী হতে চাই। তবে অতীতে প্রধানমন্ত্রী অনেক বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিলেও সেটি পরবর্তীতে আর আলোর মুখ দেখেনি, এমনটিও ঘটেছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরদারি সব সময়ই প্রত্যাশিত। কারণ আমাদের দেশে দেখা যায় একটি ঘটনার পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ইস্যু তৈরি হয়, সেটি নিয়ে কিছুদিন হইচই ও ব্যাপক আলোচনা হওয়ার পর ইস্যুটি স্তিমিত হয়ে যায় অথবা নতুন ইস্যুর উদ্ভব হলে পুরনো ইস্যু চাপা পড়ে যায়। আবরার হত্যার ক্ষেত্রেও যেন এমনটি না হয় আমরা সেটিই প্রত্যাশা করি।