বৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক ফেরত

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

বৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক ফেরত

কূটনৈতিক তৎপরতা জরুরি

সম্পাদকীয় ৯:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

print
বৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক ফেরত

ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সম্পর্ক তা শুধু ধর্মীয় কারণেই নয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আহরণের অনেক বড় একটি মাধ্যম হচ্ছে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীরা। তাই সৌদি আরবের সঙ্গে যথাযথ কূটনৈতিক তৎপরতা নিশ্চিত করে দেশটির শ্রমবাজার ধরে রাখতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা জরুরি।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের জন্য অন্যতম শ্রমবাজার সৌদি আরবে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। অবৈধদের সঙ্গে বৈধ আকামাধারীরাও (কাজের অনুমতিপত্র) এই গ্রেফতার ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের ধরে ধরে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নয় দিনে সৌদি আরব থেকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ৪৪১ জন শ্রমিককে।

এ নিয়ে গত ১০ মাসে কমপক্ষে ১১ হাজার কর্মীকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৬৩ শ্রমিক। এর আগের দিন মঙ্গলবার এসেছেন ৪২ জন। ৩ অক্টোবর ও ৪ অক্টোবর এই দুদিনের ব্যবধানে ২৫০ কর্মী সে দেশ থেকে ফিরে এসেছেন। এরপর ৫ অক্টোবর আরও ৮৬ জন সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এবং প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফিরে আসা অনেক কর্মীর অভিযোগ, কর্মস্থল থেকে বাসস্থানে ফেরার পথে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। সে সময় নিয়োগকর্তাকে ফোন করা হলেও তারা দায়িত্ব নিচ্ছেন না বরং আকামা থাকা সত্ত্বেও কর্মীদের শরণার্থী আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার দীর্ঘদিন অবৈধভাবে থাকার কারণেও অনেককে আটক ক‌রে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। দেশে ফেরা কর্মীরা জানান, আকামা থাকা সত্ত্বেও তাদের ধরে সবজি, খেজুর ও পানি বিক্রিসহ ভিক্ষা করার মতো মিথ্যা অভিযোগ এনে দেশে পাঠানো হচ্ছে।

ফেরত আসা কর্মীদের বৈধ আকামা থাকার যে দাবি করা হচ্ছে আসলেই এমনটা হয়েছে কিনা, সেটা দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ের খতিয়ে দেখা দরকার। কেন বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে, সে কারণটা বের করে সরকারের করণীয় ঠিক করা উচিত। যেন নতুন করে যারা সৌদি আরবে যেতে চাইছেন তারা বিপদে না পড়েন। যারা বঞ্চনার শিকার হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন তাদের নিয়ে ভাবতে হবে সংশ্লিষ্টকে।