চারজনে একজন দরিদ্র

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

চারজনে একজন দরিদ্র

উন্নয়নের পথে অন্তরায়

সম্পাদকীয় ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৮, ২০১৯

print
চারজনে একজন দরিদ্র

উন্নয়নের মহাসড়কে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে আমাদের দেশ। এক্ষেত্রে আমাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক খাতে যে উন্নয়ন ঘটছে, তার সবটাই ইতিবাচক সূচকে নেই। কেননা দারিদ্র্যের হার দৃশ্যমানভাবে সে অর্থে দূর হয়নি, এটা বিশ্লেষকরা প্রায়ই বলে আসছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে এবার সেটাই উঠে আসল।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে অর্থনীতির গতি বাড়লেও দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমেছে। বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের পূর্ব এবং পশ্চিমের বিভাগগুলোর মধ্যে দারিদ্র্য পরিস্থিতির ঐতিহাসিক পার্থক্য আবার ফিরে এসেছে। এ সময় পশ্চিমের রংপুর বিভাগে দারিদ্র্য বেড়েছে, রাজশাহী ও খুলনায় পরিস্থিতির পরিবর্তন নেই।

চট্টগ্রামে দারিদ্র্য কমেছে পরিমিতভাবে। বরিশাল, ঢাকা ও সিলেটে কমেছে দ্রুতগতিতে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ পোভার্টি অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও দেশের সব অঞ্চলে দারিদ্র্য কমার হার সমান নয়; কমার গতিও শ্লথ।

২০১০-২০১৬ সময়ে দারিদ্র্য বিমোচনের ৯০ শতাংশই হয়েছে গ্রামে। শহরে দারিদ্র্য কমেছে সীমিতভাবে। অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে শহরের লোকের অবস্থান প্রায় একই রয়ে গেছে। ফলে জাতীয় দারিদ্র্য বিমোচনের গতি শ্লথ হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, গ্রামাঞ্চলেও দারিদ্র্য কমাতে কৃষি নয়, শিল্প খাতই বেশি অবদান রেখেছে।

আলোচ্য সময়কালে কৃষি প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে এ খাতটি আগের চেয়ে কম অবদান রেখেছে। আর শহরাঞ্চলে উৎপাদন খাত, বিশেষ করে পোশাক খাত দারিদ্র্য বিমোচনে নেতৃত্ব দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি মার্সিয়া টেম্বন বলেছেন, বাংলাদেশে এখনো প্রতি চারজনে একজন মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে।

তবে দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার সঠিক পথেই রয়েছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, সরকার দেশ থেকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করতে রীতিমতো যুদ্ধ চালাচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। বর্তমানে আমাদের হতদরিদ্রের সংখ্যা ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু দারিদ্র্যসীমা এখনো ১৯-২০ শতাংশে ঘোরাঘুরি করছে। তবে এ হার নামিয়ে আনতে সরকার নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র বিমোচনে অর্থমন্ত্রীর কথায় আমরা আশাবাদী হতে চাই।