ভোটারদের অনাগ্রহ

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

ভোটারদের অনাগ্রহ

গণতন্ত্রের জন্য নেতিবাচক

সম্পাদকীয় ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০১৯

print
ভোটারদের অনাগ্রহ

বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর যে কোনো দেশের তুলনায় সর্বাধিক ভোটমুখী। তারা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য সব সময় মুখিয়ে থাকেন। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন কখন আসবে সে অপেক্ষায় থাকেন ভোট দেওয়ার জন্য। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে ভোট দেওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ কমেছে। বিগত সময় বেশকিছু নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুবই হতাশাজনক, কারণ তখন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল না বলে প্রমাণসহ অভিযোগ তোলা হয়েছে।

খোলা কাগজে প্রকাশ, গত শনিবার অনুষ্ঠিত রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল আরও হতাশাজনক। মাত্র ২১ দশমিক ৩১ ভাগ মানুষ সেখানে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ৭৮ ভাগের বেশি মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রেই যাননি। একটি বিশালসংখ্যক মানুষ ভোট দিতে কেন কেন্দ্রে যাননি তা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে।

নির্বাচন কমিশন বলেছে, ভোটারদের কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব তাদের নয়, এ দায়িত্ব প্রার্থীদের। আর ভোটাররা বলছেন, ভোট দেওয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ ভোটকেন্দ্র ও এর আশপাশে না থাকায় তারা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাচ্ছেন না। তা ছাড়া ভোটকেন্দ্র একটি বিশেষ মহলের দখলে থাকায় অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে অনেক সময় ভোট দিতে কেন্দ্রে যাচ্ছেন না তারা।

জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনের পর রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি একেবারেই কম ছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে দিনভর একজন-দুজন করে ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে সরব উপস্থিতিও সেভাবে ছিল না। ভোট পড়েছে ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ। এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা সাড়ে চার লাখের মতো।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসনে শতকরা ৫২ দশমিক ৩১ শতাংশ ভোট পড়েছিল। কিন্তু এরশাদের শূন্য আসনে এসে ভোট পড়ে গড়ে মাত্র ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে কয়েক মাসের ব্যবধানে মানুষের অনাগ্রহে ভোট কম পড়েছে।

এমন পরিস্থিতি কীভাবে এড়ানো যায় ও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হলে ভোটারদের বাড়ি গিয়ে কেন্দ্রে আনতে হবে না, তারা এমনিতেই কেন্দ্রে আসবেন। নির্বাচন দৃশ্যমানভাবে সুষ্ঠু না হওয়ায় তারা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। আমরা আশা করব, নির্বাচনের প্রতি ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ করবে।