প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

বিনিয়োগের আহ্বান সফল হোক

সম্পাদকীয়-১ ৮:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৫, ২০১৯

print
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবেই আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের সফরেও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। আস্থা ও নির্ভরশীলতার এ সূচকে ব্যবসা-বাণিজ্যের নির্ভরযোগ্য দেশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশ দুটি একসঙ্গে পথ চললে তাতে উভয় দেশই লাভবান হবে বলে আমরা মনে করি।

খোলা কাগজে প্রকাশ, ভারত সফরে গিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দুদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিনিয়োগ আর ব্যবসাটা একসঙ্গে হোক, যেখানে ভারতের বড় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন করবে, সেই পণ্য তারা ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিক্রি করতে পারবে।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে। ব্যবসার সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে দুদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেই হয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। দুদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বিগত বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। কিন্তু এর পাল্লা এখনো ভারতের দিকে অনেক বেশি ঝুঁকে আছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতিই সবচেয়ে উদার। বাংলাদেশে আইন করে বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া কর অবকাশ সুবিধা, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড়, লভ্যাংশ ও পুঁজি সহজে স্থানান্তরের মতো অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ।

বিদেশি বিনিয়োগের সুবিধার জন্য বাংলাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ১২টি অঞ্চলে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। মোংলা, ভেড়ামারা ও মিরসরাইয়ের তিনটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে কেবল ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য।

এদিকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা মোকাবেলায় মৈত্রী ও সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়। দক্ষিণ এশিয়াকে অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাসক্ষম অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এজন্য জনগণের স্বার্থে আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারসাম্য আনতে হবে।

আমরা প্রধানমন্ত্রীর এমন আহ্বানকে স্বাগত জানাই। কারণ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য উভয় দেশকেই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে একতরফা বাণিজ্য যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার, অন্যদিকে বিনিয়োগের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করব প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে যথাযথ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।