মানসিক স্বাস্থ্যের উদ্ভাবনে পুতুল

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

মানসিক স্বাস্থ্যের উদ্ভাবনে পুতুল

বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক

সম্পাদকীয়-১ ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৪, ২০১৯

print
মানসিক স্বাস্থ্যের উদ্ভাবনে পুতুল

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখন বিশ্বব্যাপী নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশও এ প্রচেষ্টা থেকে পিছিয়ে নেই। সবার জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নির্মাণের অভিযাত্রায় বাংলাদেশের ভূমিকা এখন উজ্জ্বল। এক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রীকন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। অটিজমবিষয়ক বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতিও তিনি।

পত্রিকায় প্রকাশ, ‘বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্যে উদ্ভাবনী নারী নেতৃত্বের ১০০ জনের তালিকায় স্থান পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের নাম। নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিভিত্তিক ‘গ্লোবাল মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রামস কনসোর্টিয়ামের’ চেয়ার ড. ক্যাথলিন পাইক সম্প্রতি ‘ফাইভ অন ফ্রাইডে’ শিরোনামে ব্লগে এই তালিকা উত্থাপন করেন। মানসিক রোগ অনুধাবন, প্রতিরোধ ও চিকিৎসার উন্নয়নে অগ্রদূত এসব নারীর ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উদ্যোগ বিবেচনায় নিয়ে পরিচিতজনদের মধ্য থেকে নামের আদ্যাক্ষরের ভিত্তিতে তালিকাটি প্রণীত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা পুতুল বাংলাদেশে অটিজমসহ মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে।

২০১৭ সালে ডব্লিউএইচও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ‘শুভেচ্ছা দূত’ নিয়োগ দেয় পুতুলকে। ডব্লিউএইচওর মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের উদ্যোগে ২০১১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় অটিজমবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন।

মানসিক স্বাস্থ্যকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত স্বাস্থ্যের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বেশ আগেই। কেননা বর্তমান বিশ্বে মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে যাদের মানসিক স্বাস্থ্য মাত্রাতিরিক্তভাবে আক্রান্ত হয়েছে, শুধু তাদের অবস্থা বিবেচনা না করে সামগ্রিকভাবে সবার মানসিক স্বাস্থ্যকেই দেখভালের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষ এখন আর সমাজের অবহেলার পাত্র নয়, তাদেরও যথাযথ কাউন্সেলিং ও চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব- এমনটি আজ সবার কাছে প্রতীয়মান সত্য। তবে এমন অবস্থান এমনি এমনি তৈরি হয়নি, পৃথিবীব্যাপী অনেক মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এ বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে বিশেষ করে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল দীর্ঘদিন ধরেই অটিজম আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে তার পরিশ্রম আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নাম আজ বিশ্বের সেরা ১০০ জন মানসিক স্বাস্থ্যে উদ্ভাবনী নারীর তালিকায় স্থান পেয়েছে। আমরা তাকে অকৃত্রিম অভিনন্দন জানাই। আশা করি তিনি তার মানবিক সেবার উদ্দেশ্য পূরণ ও দৃপ্ত স্বপ্ন নিয়ে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ার কাজে সময় ও শ্রম দেওয়া অব্যাহত রাখবেন এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও বেশি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।