পুলিশেও শুদ্ধি অভিযান

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

পুলিশেও শুদ্ধি অভিযান

স্বচ্ছতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

সম্পাদকীয়-১ ১০:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০২, ২০১৯

print
পুলিশেও শুদ্ধি অভিযান

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল অবদান রয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধেও পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল। এরপর সময়ের সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রম আরও দক্ষ হয়েছে, বেড়েছে জনবল ও যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। এভাবে পুলিশ সদস্যরা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারলেও বারবার কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যের কারণে এ বাহিনীর অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

খোলা কাগজে প্রকাশ, ঘুষ, দুর্নীতি, জোর করে টাকা আদায়, হয়রানি, প্রতারণা, যৌন হয়রানি, ধর্ষণসহ নানা অপরাধ বাড়ছে পুলিশের মধ্যে। চলমান ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির পর পুলিশের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আরও ব্যাপকভাবে উঠে আসছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মাসে নানা অপরাধের অভিযোগে ১৪ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় জনগণের আস্থা অর্জনে নিয়মতান্ত্রিক এ বাহিনীর ভাবমূর্তি ফেরানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ বাহিনীতেও শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকায় আট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সরিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সামনে এ ধরনের বদলি আরও ব্যাপকভাবেই হবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রটি জানিয়েছে।

গত কয়েক বছরে পুলিশের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে ব্যাপক বদল ঘটেছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালে হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির পর জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিসরে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশের পুলিশ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গির উৎকর্ষতায় অনেকটাই বদলে যাচ্ছে এ বাহিনী। অপরাধের ত্বরিত তদন্ত ও অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে নানা সময়ে নন্দিত হয়েছে পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু আবার এ বাহিনীর সদস্যদের নানা অপকর্মে নিন্দিতও হতে হচ্ছে।

দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপরাধী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকার কারণে সুশৃঙ্খল এ বাহিনী নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন যেমন উঠছে আবার ম্লান হয়ে উঠছে পুরো বাহিনীর অর্জন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন কোনো অপরাধ নেই যাতে পুলিশ সদস্যরা জড়াচ্ছেন না। অসৎ ও অপেশাদার সদস্যরা নিজেদের মধ্যে অপরাধের সিন্ডিকেট গড়ে তুলছে। ফলে অসহায় হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। থানা-পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে আশ্রয়স্থল হওয়ার বদলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু আমরা জনজীবনের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের ওপরই আস্থা রাখতে চাই। কারণ প্রচলিত অপরাধের প্রতিকারের জন্য পুলিশকে সবচেয়ে কাছে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযানকে অবশ্যই স্বাগত জানাতে হয়। আমরা আশা করি এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের সেবা প্রদানের জন্য আরও চৌকস, দক্ষ ও আস্থাভাজন বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়ে উঠবে।