ফের বন্যার শঙ্কা

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

ফের বন্যার শঙ্কা

এখনই তৎপর হোন

সম্পাদকীয় ৯:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০১, ২০১৯

print
ফের বন্যার শঙ্কা

আমাদের দেশের প্রান্তিক সীমার মানুষ কিছুদিন আগেই বন্যার্ত হয়েছেন। এ ভয়াল অভিজ্ঞতার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভৌগোলিকভাবেই বাংলাদেশের অবস্থান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আন্তঃনদী সম্পর্কের কাঠামোতে জড়িত, তাই বন্যার ক্ষেত্রেও আমাদের আন্তর্জাতিক পানিসীমার এ বাস্তবতায় ভুক্তভোগী হতে হয়। এজন্য এরকম পরিস্থিতিতে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর কোনো বিকল্প নেই।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ফারাক্কা বাঁধের সব গেট একসঙ্গে খুলে দিয়েছে ভারত। ফলে পদ্মা নদীতে দ্রুত পানি বাড়ছে। এতে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন চর ও নিম্ন এলাকা প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে গঙ্গা অববাহিকায় মৌসুমি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মাসের শুরুতে দেশে বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে মাঝারি থেকে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আবার নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন কিছুদিন আগে বন্যায় নাকাল মানুষ।

পাউবো কর্মকর্তারা বলছেন, গত সোমবার ভারত ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি গেট খুলে দিয়েছে। এতে রাজশাহীতে পদ্মায় পানিপ্রবাহ বিপদসীমার ১৮ দশমিক ৫০ মিটারের কাছাকাছি চলে এসেছে। গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীতে পদ্মায় প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ দশমিক শূন্য এক মিটার। প্রতি ঘণ্টায় অন্তত দুই সেন্টিমিটার করে পানিপ্রবাহ বাড়ছে পদ্মায়।

ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে গত কয়েক দিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। ফলে এসব রাজ্যে বন্যা দেখা দিয়েছে, মারাও গেছেন ১৩৪ জন। এ কারণেই ফারাক্কা বাঁধের সব গেট একসঙ্গে খুলে দিয়েছে ভারত। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় অংশে মৌসুমি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে গঙ্গা নদীর বাংলাদেশ অংশের পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের বিহারের বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি চলতি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এরকম পূর্বাভাস আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। এছাড়া প্রতি বছরই ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতে হয়। আমরা প্রত্যাশা করব এর স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার জরুরিভিত্তিতে ফারাক্কা বাঁধের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে।