স্বেচ্ছায় অগ্নিদগ্ধ তরুণী

ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ | ১ কার্তিক ১৪২৬

স্বেচ্ছায় অগ্নিদগ্ধ তরুণী

সচেতনতার বিকল্প নেই

সম্পাদকীয় ১০:২৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

print
স্বেচ্ছায় অগ্নিদগ্ধ তরুণী

সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই তরুণ-তরুণীরা বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে একত্রে বসবাস করে নতুন জীবনের সূচনা করেন। এক্ষেত্রে বিয়ের আগে সমমনা কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চাইলে খুব স্বাভাবিকভাবেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবার ও সমাজ। আমরা নৈতিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের কথা বলে এরকম প্রেমকে নিরুৎসাহিত করি, কিন্তু সমাজে এরকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। আর এর পরিণতিও ইতিবাচক হচ্ছে না।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রাজশাহীর এক কলেজ শিক্ষার্থী। নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। শনিবার রাজশাহীর শাহ মখদুম থানায় অভিযোগ জানাতে যান ওই ছাত্রী। থানা থেকে বের হয়েই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, স্থানীয় একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের এই ছাত্রী গত জানুয়ারি মাসে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। এতদিন তারা রাজশাহীর শহরে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। শনিবার থানায় গিয়ে ওই তরুণী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, কোনো পক্ষই তাদের বিয়ে মেনে নিচ্ছে না। পুলিশ তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়। ওসি আরও বলেন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে তরুণীটির কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি মামলা করতে চান কি-না। এর জবাবে তিনি বলেন, আরেকটু ভেবে দেখতে চান। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে বেরিয়ে আসেন।

এর পরপরই ব্যস্ত রাস্তায় নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনাস্থল শাহ মখদুম থানা থেকে ১০০ মিটারেরও কম দূরত্বে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে। এই তরুণীটি গাইবান্ধার একটি পরিবারের পালিত কন্যা। পড়াশোনার জন্য তিনি রাজশাহীতে থাকতেন। তার পালক পরিবারের একজন সদস্য জানান, তারা এই তরুণীর বিয়ের খবর এতদিন জানতেন না। এক মাস আগেই তারা জানতে পারেন। তবে তিনি তার দাম্পত্য সমস্যার কোনো ব্যাপারে পরিবারের কাউকে কখনো কিছু জানাননি।

অভিভাবকদের না জানিয়ে ছাত্রজীবনে প্রেমের মাধ্যমে বিয়ের ক্ষেত্রে এমন ফলাফলই দেখা দেয়। তবে এজন্য আত্মহত্যার চেষ্টা করা অবশ্যই অপ্রত্যাশিত। আমরা আশা করব, বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীরা আবেগ নয়, বরং বাস্তবতা দ্বারাই পরিচালিত হবে। পাশাপাশি সচেতন থাকতে হবে অভিভাবক মহলকেও।