নদী দখলকারীর তালিকা

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

নদী দখলকারীর তালিকা

এবার পদক্ষেপ নিন

সম্পাদকীয়-১ ৯:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

print
নদী দখলকারীর তালিকা

ক্রমবর্ধমান হারে আমাদের নদ-নদী ও খাল দূষণ-দখলের শিকার হচ্ছে। দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নদী জীবনধারণসহ সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আজো শুধু নদীকে কেন্দ্র করেই হাজার হাজার পরিবারের ভাগ্য নির্ধারণ হয়। মানবদেহে যেমন শিরা-ধমনির গুরুত্ব অসীম তেমনি জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতেও নদীর গুরুত্ব অত্যধিক। অথচ দিনে দিনে বেশির ভাগ নদী অসৎ লোকজন দখল-দূষণ করে আসছে। তবে বেশ কিছুদিন ধরে নদীরক্ষায় সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তৎপর হয়েছে। আদালতের নির্দেশে নদী উদ্ধারের কাজ চলমান।

খোলা কাগজে এর আগেও একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। নদী রক্ষায় সচেতন মহলেরও মাথাব্যথা রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেল, হাইকোর্টের দেওয়া রায় অনুযায়ী নদী রক্ষা কমিশন এবার দূষণ-দখলকারীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ৬১ জেলার ৪৬ হাজার ৭৪২ দখলদারের নাম প্রকাশ করেছে কমিশন। এতে রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম। প্রকাশিত ওই তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। কোনোভাবেই যেন তারা আইনের বিধি থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে সে খেয়াল রাখাই এখন মুখ্য বিষয়।

আমরা দেখেছি, রাজধানী পাশ্ববর্তী কয়েকটি নদী ভীষণভাবে দূষণ-দখলের শিকার। এর আগে অনেকবার অভিযান পরিচালনা করেও তা থামানো যায়নি। কিন্তু সাম্প্রতিককালের অভিযান অনেক কাজে এসেছে। তা ছাড়া, রাজধানীর খালগুলোর চিত্রও করুণ। সেগুলো উদ্ধার করাও অতিগুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরীর পাশ্ববর্তী নদীগুলোও তালিকায় আছে। সেখানেও উদ্ধার তৎপরতা চলছে এবং দূষণ-দখল রোধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তালিকার প্রকাশ পাওয়ায় যে বা যারা এ জাতীয় অপকর্মে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। দখলদার কিংবা দূষণকারী যত প্রভাবশালী হোক না কেন, কোনোভাবেই যেন তারা পার না পায় সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

শুধু রাজধানী ঢাকা কিংবা বন্দরনগরী চট্টগ্রাম নয়, নদী দখল-দূষণ হচ্ছে দেশজুড়েই। তাই তালিকায় থাকা ৬১ জেলায় প্রায় ৪৭ হাজার দূষণ-দখলকারীর অপরাধ বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করতে হবে। একবার দূষণ-দখলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে তা থামিয়ে দিলে আবার তা পুনর্দখল হয়। এবার তালিকা প্রকাশের পরও যদি তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে তালিকার কোনো মূল্য থাকবে না।

আমরা চাই, আদালতের নির্দেশে সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ ব্যাপারে সংবেদনশীল থাকবে। নদী দেশবাসীর জন্য অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জীবন্তসত্তা নদীগুলোকে সুন্দরভাবে বাঁচিয়ে রাখাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতে তালিকা অনুযায়ী প্রকাশ পাওয়া দূষণ-দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার পক্ষ কার্পণ্য করবে না বলেই আমরা আশা করি।