ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ঋণ সুবিধা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ঋণ সুবিধা

সুষম ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন

সম্পাদকীয় ১০:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

print
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ঋণ সুবিধা

বর্তমান সময়ে বেকারত্ব বিমোচন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য চাকরির বদলে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এজন্য আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসার সূচনালগ্নে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য যে জোগানটুকু প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। এজন্য ব্যাংকগুলোকে এসএমই খাতে সিঙ্গেল সুদে ঋণ প্রদানসহ যে সব সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সঠিকভাবে তা পালন করা হচ্ছে কী না সেটি যাচাই করে দেখা উচিত।

পত্রিকায় প্রকাশ, এসএমই তথা ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ এবং অন্যান্য সুবিধা বাড়াচ্ছে সরকার। এজন্য নতুন একটি নীতিমালার খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘এসএমই নীতিমালা ২০১৯’ অনুমোদন পায়। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এসএমই খাতের জন্য ২০০৫ সালে একটি কৌশল প্রণয়ন করা হয়, এবারই প্রথম নীতিমালা হলো। এই নীতিমালা ২০১৯-২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। জাতীয় শিল্পনীতির আলোকে এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এই খাতে প্রায় ৭৮ লাখ অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে। জিডিপিতে এই খাতের অবদান হলো প্রায় ২৫ শতাংশ।

নীতিমালার বাস্তবায়ন কৌশলে বিষয়ে শফিউল বলেন, কৌশলগত অর্থায়ন সুবিধা প্রাপ্তিতে এসএমই খাতের সুযোগ বৃদ্ধি করা, এসএমই খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করা, অর্থায়নের ব্যবস্থা করা। এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড চালু করা। এই ফান্ড চালু হলে মর্টগেজ থাকবে না, অর্থ প্রাপ্তি সহজ হবে। সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের কথা বলা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে এসএমই উদ্যোক্তারা এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ব্যাংক থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহারে (১০ এর নীচে) ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পায়। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩৬টি অ্যাকটিভিটিজ ও ৬২টি কৌশল আছে। সময়াবদ্ধ কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী বলে দেওয়া রয়েছে কী কী অর্জন করতে হবে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০২৫ সালে এসএমই খাতে জিডিপিতে অবদান ৩২ শতাংশে উন্নীত হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে সরকারকে অবশ্যই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মনোযোগী হতে হবে। আমরা আশা করি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসার প্রসারের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।