সড়কে বেপরোয়া চালক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

সড়কে বেপরোয়া চালক

আইনের শাসন কাম্য

সম্পাদকীয়-১ ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

print
সড়কে বেপরোয়া চালক

দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় শত চেষ্টা করেও শৃঙ্খলা ফেরানো যায়নি। এক্ষেত্রে আইন মেনে না চলার প্রবণতার পাশাপাশি চালক ও পথচারীদের অসচেতনতার বিষয়টিও উঠে আসে। তবে চালকদের বেপরোয়া মনোভাব সড়ক দুর্ঘটনার জন্য মুখ্য কারণ হিসেবে গণ্য হয়। কারণ চালকরা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করার পাশাপাশি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সরাসরি বাস উঠিয়ে দেওয়ার মতো অপরাধ করে ফেলছেন। অতীতের মতো বর্তমানেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

 

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, রাজধানীতে ভিক্টর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় সংগীত পরিচালক পারভেজ রব নিহতের ঘটনায় মামলার বিষয়ে পরিবহনটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন তার ছেলে ইয়ামিন আলভী (১৯) ও ছেলের বন্ধু মেহেদী হাসান ছোটন (২০)। বাকবিতণ্ডার জেরে এ দুজনের ওপরই বাস চালিয়ে দিয়েছে ভিক্টর পরিবহনের আরেক চালক। এতে মৃত্যু হয়েছে ছোটনের, মৃত্যুশয্যায় কাতরাচ্ছেন আলভী।

গত শনিবার উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় আলভীদের বাসার কাছে এ ‘হত্যাকাণ্ড’ ঘটে বলে জানান তার স্বজনরা। তারা দাবি করেন, সড়ক দুর্ঘটনায় পারভেজ রব নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপের জন্য ভিক্টর পরিবহনের কর্মকর্তারা আলভীদের বাসার কাছে আসেন। সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডা হলে পারভেজ রবের পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ভিক্টর পরিবহনের এক চালককে মারধর করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা ভিক্টর পরিবহনের একটি বাস তাদের উপর চালিয়ে দেওয়া হয়। এতে আলভী ও তার বন্ধু ছোটন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছোটন মারা যান। আলভীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর ভিক্টর পরিবহনেরই আরেক বাসের চাপায় কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক পারভেজ রব (৫৬) নিহত হন। তিনি কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদের ছোট ভাই।

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাচ্ছে না, গত রোববারও সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। এক্ষেত্রে আমরা আইনের শাসন দেখতে চাই। অতীতেও দেখা গেছে, হত্যার উদ্দেশ্যে ট্রাক তুলে দেওয়ার ঘটনায় চালকের শাস্তি হলে বাস-ট্রাক ড্রাইভাররা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলেছেন। নিজেদের অপকর্ম অব্যাহত রাখার স্বার্থে দুর্বৃত্তরা ঔদ্ধত্য দেখাবে, কিন্তু আইনের শাসন যেন দুর্বল না হয় সেক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।