সরকারি চাকরির বয়স

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

সরকারি চাকরির বয়স

ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন

সম্পাদকীয় ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৯

print
সরকারি চাকরির বয়স

বর্তমানে আর্থিক নিরাপত্তা ও চাকরির স্থায়িত্বের কারণে সরকারি চাকরির চাহিদা দেশের শিক্ষিত তরুণদের পছন্দের তালিকায় প্রথমে অবস্থান করছে। শিক্ষিত যুবকরা সরকারি চাকরির জন্য কী পরিমাণ মরিয়া হয়ে পড়েছেন তা বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার আবেদনকারীদের সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। একদিকে বেসরকারি চাকরির স্বল্পতা ও চাকরির মেয়াদের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা আমাদের দেশের তরুণদের লক্ষ্যকে সরকারি চাকরিবিমুখ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এছাড়া উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ প্রতিবন্ধকতা ছড়িয়ে রয়েছে, সেটিও চাকরি না করে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, সরকারি চাকরিতে ঢোকার বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছেন চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েক দফা রাস্তায় নেমেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। দশম সংসদের সংসদীয় কমিটি তাদের দাবি পূরণের সুপারিশ করলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি। দশম সংসদে সেই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত জুলাই মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে চাকরির ঢোকার বয়স না বাড়ানোর পক্ষে নিজের অবস্থান জানিয়ে বলেন, বর্তমান অবস্থায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পরও একজন চাকরি প্রার্থীর হাতে কয়েক বছর থাকে, ফলে আরও সময় বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই। তিনি বলেছিলেন, ৩৫ বছরে পরীক্ষা দিলে এরপর ট্রেনিং শেষ হতে তো আরও ২ বছর লাগবে। তাহলে ৩৭ গেল। ৩৭ এ চাকরিতে ঢুকলে ২৫ বছর না হলে কিন্তু ফুল পেনশনটা পাবে না। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনেকেই সেশনজট না থাকার যুক্তি দিচ্ছেন। কিন্তু যারা আগে সেশনজটের শিকার হয়েছেন, তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া বছরগুলো ফেরত চান।

দেশে বিরাজমান নানা নৈরাজ্যের মাঝে আমরা নতুন কোনো সংকট প্রত্যাশা করি না। বর্তমান সরকার সম্প্রতি উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে তরুণদের উৎসাহিত করার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এমন সিদ্ধান্ত যেমন প্রশংসনীয়, ঠিক তেমনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আবেদনের বয়স বাড়ানো প্রয়োজন কি-না, সেটি আরেকবার ভেবে দেখা উচিত। কারণ এখন অনেক বেসরকারি চাকরির জন্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমাকে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই সরকারি চাকরির এ নিয়ম যেন কোনোভাবে নতুন সংকট তৈরি না করে, সেটি খেয়াল রাখা দরকার।