অধিকার বঞ্চিত চা শ্রমিক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

অধিকার বঞ্চিত চা শ্রমিক

মানবতা নিশ্চিত করুন

সম্পাদকীয় ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

print
অধিকার বঞ্চিত চা শ্রমিক

সভ্যতার পরিক্রমায় দুটি পাতার একটি কুঁড়ি নিঃসৃত যে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আমরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলি। সে চা কীভাবে উৎপাদিত হয়ে আমাদের নিত্যদিনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে তা শহরে বসে জানার সুযোগ নেই। উন্নয়নের আলো বঞ্চিত চা পাতার শ্রমিকদের জীবন আলেখ্য আমাদের অগোচরেই থেকে যায়, সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়া তাদের ভেতরের খবর বাইরে থেকে জানার সুযোগটাও থাকে না।

খোলা কাগজে চার পর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয় বছরে গড়ে এক লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা বলা হলেও, চা বাগানের শ্রমিকদের আয়চিত্র একেবারে ভিন্ন। দিনে ৬৫ থেকে ১০২ টাকা মজুরিতে চা শ্রমিকরা বয়ে বেড়াচ্ছেন দাসত্বের জীবন। সরেজমিন মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ব্রিটিশ আমলে চা শ্রমিকদের মজুরি ছিল দৈনিক ২১ টাকা। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তা ২৮ টাকা, ৪৮ টাকা, ৬৯ টাকা, ৮৫ টাকা করা হয়।

সর্বশেষ তাদের মজুরি এসে দাঁড়িয়েছে ১০২ টাকা। এ মজুরিও স্থায়ী শ্রমিকদের জন্য। অস্থায়ী শ্রমিকরা ন্যূনতম এ মজুরি থেকেও বঞ্চিত। আরও জানা যায়, প্রত্যেক শ্রমিককে বাগানের কর্তারা চা পাতা সংগ্রহের লক্ষ্য বেঁধে দেন। এ লক্ষ্য পূরণের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অমানুষিক খাটুনি দিতে হয় শ্রমিকদের।

মৌলভীবাজার জেলায় বেশকিছু চা বাগান ঘুরে চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রায়ই অপুষ্টি, রক্তশূন্যতা, জ্বর, ম্যালেরিয়া, আমাশয়, ডায়রিয়াসহ নানা অসুখ-বিসুখে ভোগেন। এ সব রোগ থেকে মুক্তির জন্য ভালো চিকিৎসা সেবা পান না।

প্রথমত, কম মজুরির কারণে এসব শ্রমিকরা অপুষ্টিকর খাবার খেয়ে জীবন ধারণ করতে বাধ্য হন। দ্বিতীয়ত, অধিকাংশ শ্রমিক পল্লীতে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নেই। ফলে বেশির ভাগ সময় খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করেন। এ কারণে চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সারা বছর রোগ লেগেই থাকে।

আধুনিক সভ্যতার উন্নয়নের পাদপীঠে চা শ্রমিকদের অবহেলার বিষয়টি আমাদের কাম্য নয়। তারাও রক্ত-মাংসের মানুষ। মানবিক সভ্যতার স্বার্থেই তাদের মানবাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেই আমরা প্রত্যাশা করি।