কৃষিঋণ বিতরণে অনীহা

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

কৃষিঋণ বিতরণে অনীহা

কঠোর পদক্ষেপ নিন

সম্পাদকীয় ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯

print
কৃষিঋণ বিতরণে অনীহা

কৃষিসম্পদের ওপর ভিত্তি করেই একটি দেশ এগিয়ে চলে। কিন্তু মুক্তবাজার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় দেশের অগ্রযাত্রার মূল কারিগর কৃষকরাই থাকেন সবচেয়ে অবহেলিত। এমনিতেই মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষক তার উৎপাদিত শস্যের ন্যায্যমূল্য পান না, তার ওপর যদি কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণের জোগান বন্ধ থাকে তাহলে সামগ্রিকভাবে কৃষি খাতে নৈরাজ্য তৈরি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই কৃষিকাজ সুষ্ঠুভাবে অব্যাহত রাখার স্বার্থেই কৃষকের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

খোলা কাগজে প্রকাশ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে ২ শতাংশ হারে কৃষিঋণ বিতরণ করতে হবে। সুদ হার রাখতে হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। যে সব ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে নিজস্ব শাখা নেই তারা অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে এ ঋণ বিতরণ করবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা না মানলে ওই সব ব্যাংককে জরিমানা দিতে হবে। এ কঠোর নির্দেশনার পরও প্রায় আটটি বাণিজ্যিক ব্যাংক কয়েক বছর ধরে কৃষিঋণ বিতরণ করছে না।

সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা ও পল্লী অঞ্চলে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলে দারিদ্র্য কমিয়ে আনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সব ব্যাংককে কৃষিঋণ বিতরণে নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষিঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যে সব ব্যাংক মানছে না, সেসব বাণিজ্যিক ব্যাংককে নিয়মিত জরিমানাও করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা অনার্জিত টাকার সমপরিমাণ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কেটে নিয়েছে। কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতি বারবার তাগাদা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কিছু ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আটটি ব্যাংকের কৃষিঋণের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-মধুমতি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এসবিএ ব্যাংক তিন বছরের অধিক সময় ধরে কৃষিঋণ বিতরণ করছে না। দুই বছর ধরে কৃষিঋণ বিতরণ করছে না এবি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক।

কৃষিঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এমন দৃশ্য অর্থনীতির জন্য সুখবর বয়ে আনবে না। কারণ কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এ কথাটি চিরন্তন সত্য বলে বিবেচিত হয়। সে কারণে কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান নিশ্চিত করে কৃষিকাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংককে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। কৃষিকাজে সংকট তৈরি হলে আমাদের জীবনধারণের প্রধান উপাদান খাবারের সরবরাহে টান পড়বে, এ বিষয়টি মাথায় রেখেই কৃষকের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের একান্ত কর্তব্য।