সাদা চিনিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

সাদা চিনিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি

সচেতনতা প্রয়োজন

সম্পাদকীয়-১ ৯:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯

print
সাদা চিনিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি

আমাদের জীবন ধারণের জন্য খাবার এক অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু অর্থের লোভ আর মনুষ্যত্বহীনতার প্রকাশে জীবনকে টিকিয়ে রাখা খাবারের সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে ভেজালের আগ্রাসন। বর্তমানে ভেজালমুক্ত খাবার খুঁজে পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছে। যে কারণে সুস্থতার জন্য সুষম খাদ্য নিশ্চিতের ক্ষেত্রে আমাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতে হয়। কারণ ভেজালের আওতা থেকে ঠিক কোন খাদ্যটি মুক্ত, সেটি নির্ণয় করা খুব কষ্টসাধ্য। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে চেষ্টা করলেও দুর্বৃত্তদের কালো থাবা থেকে বাঁচতে জনগণের সচেতনতাই এখন সর্বাগ্রে জরুরি।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ঝরঝরে সাদা চিনি খুব একটা স্বাস্থ্যকর যে না, তা হয়তো অনেকেই জানেন। এর চাহিদাও কিন্তু কম না। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে যা পাওয়া যায়, তার ৯০ শতাংশই সাদা চিনি। কিন্তু সিঙ্গাপুরের প্যাসিফিক ল্যাব থেকে পরীক্ষা করিয়ে এনে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) বলছে, তারা এই সাদা চিনিতে অস্তিত্ব পেয়েছেন-সোডিয়াম সাইক্লামেটের, যেটি পরিচিত ঘন চিনি নামে। বাংলাদেশে একটি নিষিদ্ধ উপাদান এটি। সিঙ্গাপুরে পরীক্ষা করা বাজার থেকে সংগৃহীত প্যাকেটজাত ১২ ও খোলা চারটি সাদা চিনির নমুনার সবকটিতেই ছিল সোডিয়াম সাইক্লামেটের উপাদান।

সাদা পাউডারের মতো পদার্থ সোডিয়াম সাইক্লামেট বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয় ২০০৬ সালে। চিনির চাইতে ৩০-৫০ গুণ বেশি মিষ্টি, দামে কম এ পদার্থটি স্বাদে চিনির সঙ্গে তফাত কম। এর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ক্যান্সারও। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শারমীর রুমি আলীম বলেন, শরীরে রক্তে ক্যান্সার হতে পারে সোডিয়াম সাইক্লামেটে। একই সঙ্গে পুরুষদের বন্ধ্যত্বের জন্যও এই পদার্থ দায়ী।

এ নষ্ট সময়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে আমাদের সচেতনতা খুব প্রয়োজন। কারণ সরকারিভাবে বারবার অভিযান পরিচালনা করা হলেও ভেজালের দৌরাত্ম্য থামছে না। এত কিছুর পরও আমরা সরকারের কঠোর ভূমিকাই প্রত্যাশা করব। কারণ জনগণের সচেতনতার পাশাপাশি সরকার যদি ভেজালের ক্ষেত্রে একবিন্দু পরিমাণ ছাড় না দেয়, তাহলে আমাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে এ আশাবাদ পোষণ করা যায়।