ওষুধের নামে ভায়াগ্রার বিস্তার

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

ওষুধের নামে ভায়াগ্রার বিস্তার

সচেতন হতে হবে এখনই

সম্পাদকীয় ৯:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
ওষুধের নামে ভায়াগ্রার বিস্তার

মানুষের জীবনে যৌন ট্যাবলেটে আসক্তি মাদকাসক্তির মতোই এক ক্ষতিকর অধ্যায়। স্বাভাবিক যৌন ক্ষমতা না থাকলে তখন চিকিৎসকরা সীমিতভাবে উত্তেজক ট্যাবলেট খাওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করলেও দীর্ঘমেয়াদে এর ব্যবহারের পরিণতি খুবই ভয়াবহ। কিন্তু সহজলভ্যতা ও চোরাই পথে ওষুধের নামে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ভায়াগ্রা আমদানি করা হচ্ছে। এমনকি চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দেশেও ভায়াগ্রা উৎপাদন শুরু হয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, কয়েক মাস ধরে মিথ্যা ঘোষণায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে যৌন উত্তেজক ওষুধ ভায়াগ্রা তৈরির কাঁচামাল। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমদানি করা ২ হাজার ৫০০ কেজি পাউডারের চালান পরীক্ষা করলে এ তথ্য বেরিয়ে আসে। বেনাপোলে জব্দ করা দুটি চালানেই ছিল প্রায় ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা মূল্যের ভায়াগ্রা তৈরির কাঁচামাল।

এগুলো ওষুধ ও ফুড ফ্লেভার তৈরির মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়। শুল্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল বন্দরে গত কয়েক মাসে একাধিক এ ধরনের চালান আটক করা করেছে। সবই মিথ্যা ঘোষণায় ভারত থেকে আনা হচ্ছিল। ওষুধ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বলেন, বাংলাদেশে যৌন উত্তেজক ওষুধের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ওষুধের কাঁচামাল চোরাপথে আসা এটাই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে এ ধরনের ওষুধের ব্যাপক চাহিদা আছে।

বিশ্বখ্যাত ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ভায়াগ্রা আবিষ্কার করেছে। এটা তাদের ব্র্যান্ড নাম। এই ওষুধের জেনেরিক নাম সিলডেনাফিল। প্রথম যখন এটি উদ্ভাবন করা হয় তখন এ নিয়ে বেশ শঙ্কা ছিল। এক সময় বাংলাদেশে ভায়াগ্রা সমগোত্রীয় ওষুধ নিষিদ্ধ থাকলেও কয়েক বছর আগে সরকার কিছু কোম্পানিকে এসব ওষুধ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে অসংখ্য রোগী আছেন, যারা ইরেকটাইল ডিসফাংশনে ভুগছে, তাদের কথা চিন্তা করে এই ওষুধ সেবনের অনুমতি দেওয়া হয়।

প্রকৃতপক্ষে যৌন দুর্বলতার এ ওষুধ চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়াই ব্যাপকভাবে সেবন চলছে। যার ফলে সহজলভ্য হয়ে পড়া ভায়াগ্রা আমদানি ও উৎপাদনের বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা আশা করব সরকার জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ওষুধের নামে ভায়াগ্রার বিস্তার রোধে কঠোর ভূমিকা রাখবে এবং সেটা এখন থেকেই।