পুলিশের ওপর হামলা

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

পুলিশের ওপর হামলা

রাষ্ট্রের জন্য অশনি সংকেত

সম্পাদকীয়-১ ৯:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯

print
পুলিশের ওপর হামলা

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করার ফলে আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ দমন করা সম্ভব হলেও একেবারেই নির্মূল করা যায়নি। যার ফলে এখনো জঙ্গিরা তাদের পরিকল্পনার আলোকে মাঝেমধ্যেই নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রকৃতপক্ষে উগ্রপন্থার আলোকে যাদের মগজ ধোলাই হয়ে যায়, তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা খুব দুস্কর হয়ে পড়ে। তার ওপর আইনের মারপ্যাঁচে তারা ঠিকই জামিন পেতে সম্ভব হয়। তাই জঙ্গিবাদ যেন কিছুতেই আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবসময় সতর্ক থাকা উচিত।

খোলা কাগজে প্রকাশ, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনবার বোমা হামলা হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার রাতে সায়েন্সল্যাব এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা হয়। এসব হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য ও দুজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। প্রতিবার হামলার পরপরই দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। যদিও এ দাবি বরাবরই নাকচ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তারা বলছেন, দেশীয় জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসী কোনো গোষ্ঠীর পরিকল্পিত হামলা এগুলো। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়ে পড়ায় পুলিশের ওপর হামলা করে তাদের উপস্থিতি জানান দিতে চাইছে। বারবার এ ধরনের হামলা উদ্বেগজনক এবং রাষ্ট্রের জন্য এটি অশনি সংকেত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, আইএসের নাম ভাঙিয়ে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসীগোষ্ঠী এই বোমা হামলাগুলো চালাচ্ছে। পুলিশের মনোবল দুর্বল করার জন্যই এ ধরনের হামলা চালিয়ে ভীতির সঞ্চার করা হচ্ছে। তবে এই তিনটি বোমা হামলার ঘটনা একটি আরেকটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তারা। হামলার পরপরই আইএসের দায় স্বীকারকে কোনো একটি গোষ্ঠীর পরিকল্পিত ঘটনা বলেও মনে করছেন তারা।

পুলিশের ওপর বোমা হামলার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে হামলায় ব্যবহৃত আইইডির সঙ্গে আগের হামলার আইইডি মিল থাকায় পুলিশের ধারণা কোনো একটি গ্রুপই পুলিশের ওপর বারবার হামলা করছে। কিন্তু কারা এর সঙ্গে জড়িত বা এত নিরাপত্তার পরও কেন তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে এটি ভাবিয়ে তুলছে সব মহলকে।

উগ্রপন্থা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বড় একটি সমস্যা। এর মোকাবেলায় উগ্রপন্থার বিপরীতে ধর্মে যে শান্তির কথা রয়েছে সেটি ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। কোনো ধর্মই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, দেশের ধর্মীয় বিশেষজ্ঞসহ সবার উচিত ধর্মের প্রকৃত ব্যাখ্যা গণমানুষের কাছে তুলে ধরা। সেই সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ আমাদের দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।