ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ নিষিদ্ধ

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ নিষিদ্ধ

সবার সচেতনতা কাম্য

সম্পাদকীয় ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯

print
ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ নিষিদ্ধ

গণপরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রেনে চলাচল সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী। আমাদের দেশের রেলপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা থাকলেও দুঃখজনকভাবে কোনো এক অদৃশ্য কারণে রেলখাতে উন্নয়ন বছরের পর বছর স্থবির হয়ে থাকে। কিছু উদ্যোগ দৃশ্যমান হলেও প্রকৃত চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। সে কারণে রেলওয়ে খাতকে বগি সংকটসহ নানাবিধ সমস্যা মোকাবিলা করে চলতে হয়।

এছাড়া প্রতিবছর দুই ঈদের সময় অত্যধিক যাত্রীর ভিড়ে রেলে তীব্র সংকট দেখা দেয়। যার ফলে ঘরে ফেরা লোকজন রেলের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে থাকেন।

পত্রিকায় প্রকাশ, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গত রোববার থেকে ট্রেনের ছাদেও উঠতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই দিন রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে প্রথম দিনের অভিযান শুরু করে টাস্কফোর্স। অভিযানকালে বেশ কয়েকজনকে ছাদ থেকে নামানোসহ চট্টগ্রামে ছয়জনকে দণ্ড দিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, এখন থেকে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান পরিদর্শক মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘ছাদে বা বাম্পারে অবৈধ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আমরা আগে থেকেই দণ্ডনীয় অপরাধ বলে আসছি। এবার কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কঠোরভাবে বিষয়টি দমন করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে আখাউড়া এবং ময়মনসিংহগামী ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

এ জন্য সেসব ট্রেনেও কড়া নজরদারি করা হচ্ছে।’ ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজা জেরিন বলেন, ‘স্টেশনগুলোতে এ বিষয়ে নোটিসও টাঙানো হয়েছে। এরপরও স্টেশনে এসে দেখা যায়, ট্রেনের ছাদে কিছু যাত্রী উঠে বসে আছেন এবং পাবলিক প্লেসে ধূমপান করছেন। তাই তাদের আইনের আওতায় এনে জরিমানা করা হয়েছে।’

বর্তমানে যাত্রীদের প্রচুর চাপ না থাকায় ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের বিষয়টিকে জরিমানার যোগ্য বলে বিবেচিত করা যাচ্ছে। কিন্তু যখন ট্রেনে যাত্রীদের সংখ্যা অনেক বেশি থাকে, তখন এমনটি করতে গেলে বিশৃঙ্খলা তৈরির সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ট্রেনে বগির সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়েও রেল কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে।