পারিবারিক বন্ধন ভাঙছে

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

পারিবারিক বন্ধন ভাঙছে

সচেতন হতে হবে এখনই

সম্পাদকীয়-১ ৯:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯

print
পারিবারিক বন্ধন ভাঙছে

মানবজীবনে শিশুর সুষমভাবে বেড়ে ওঠার নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হচ্ছে পরিবার। আমাদের হাসি-আনন্দ, সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতার সময়ও পরিবারই প্রধান আস্থার জায়গা ওঠে। সারা জীবন পরিবারের সঙ্গে থেকে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের যে প্রশান্তি তা একাকী জীবনে পাওয়া সম্ভব হয় না। বাবা-মা, ভাইবোন, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার প্রশান্তি জীবনে স্বর্গসুখ নিয়ে আসে। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি মানুষ পরিবারের সঙ্গেই আমৃত্যু থাকতে চান। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার হাজারো কৃত্রিম আলোর ভিড়ে পরিবারের সঙ্গে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার মতো আলোকিত জীবন আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই ইদানীং অরণ্যে রোদন হয়ে উঠছে। এর পেছনে বর্তমানে বাস্তবিক সম্পর্ক বাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টিকে মুখ্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খোলা কাগজে প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসক্তি যেন দিন দিন মহামারী আকার ধারণ করছে। বাড়ছে অপরাধসহ নানা জটিলতাও। পারিবারিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবার সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলার যে গুরুত্ব, তা দিন দিন আঁধারে মিলিয়ে যাচ্ছে ফেসবুকের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে। সারা দিনের কর্মব্যস্ততা সেরে বাসায় ফেরা পরিবারের সদস্যরাও অনেকে মজে থাকেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফলে মুখোমুখি আন্তঃযোগাযোগ কমে যাওয়ায় ভাঙছে পারিবারিক বন্ধন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি মানুষের কেন এত আসক্তি-এমন প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দীন কাউসার বিপ্লব বলেন, এই আসক্তির অনেক রকম কারণ। এক জায়গায় বসে বহু পুরনো বা অনেক মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। অল্প খরচে, অল্প পরিশ্রমে এটা সম্ভব হয়। বাইরের বিশ্বের কথা আমি অতটা বলতে পারব না। তবে অবশ্যই আমাদের দেশে তরুণরা খুবই প্রভাবিত। এখানে সকাল বিকাল বা রাত নেই হাজার হাজার মানুষ সব সময় একটিভ থাকেন। একজন মা আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি বলছিলেন, তার তিন সন্তানের সবাই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। পারিবারিক যে আলোচনা বা বন্ধন সেটা থাকছে না। প্রতিটি পরিবারেই এখন এই সমস্যা।

আমরা প্রকৃতপক্ষে আধুনিক সভ্যতার দাস হয়ে পড়েছি। এ দাসত্ব এখন মনোজাগতিক শৃঙ্খলের, যেখানে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে গিয়ে কার্যত অসামাজিক হয়ে পড়ছি। এখনই যদি আমরা সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যতে তা ভয়াল আকার ধারণ করবে। আমাদের উচিত পারিবারিক বন্ধন টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের গঠনমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা ও পরিবারের সবার সঙ্গে নিয়মিত সরাসরি কথা বলার অভ্যাসটিকে জিইয়ে রাখা। তাহলে আশা করা যায় প্রযুক্তির দাস হয়ে নয় বরং প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়েই আমরা প্রকৃত আধুনিক মানুষ হিসেবে নিজেদের রূপান্তরিত করতে সক্ষম হব।