বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য

কার্যকর পদক্ষেপ নিন

সম্পাদকীয় ৯:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯

print
বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য

বর্তমান সময়ে জমির মালিক হিসেবে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন লাভজনক একটি ব্যবসা। বিশেষ করে শহর এলাকায় বাড়ি ভাড়ার মাধ্যমে পুঁজির পাহাড় জমিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার ঘটনা এখন অহরহই ঘটছে। বাড়ি ভাড়ার মাধ্যমে আয় করা খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা হলেও মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এক্ষেত্রে এখন চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। আর ভাড়াটিয়ারাও দুর্বল হওয়ায় দিনের পর দিন অতিরিক্ত ভাড়া গোনাসহ নানাবিধ অত্যাচার সহ্য করে তারা শহুরে এলাকায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

খোলা কাগজে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, রাজধানীর বাড়িওয়ালাদের নৈরাজ্যের কথা নতুন নয়। কথায় কথায় ভাড়া বাড়ানোসহ নানা খামখেয়ালি শর্তে এসব বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক বলে পরিচিত। কিছু কিছু এলাকার বাড়িওয়ালা এতটাই বেপরোয়া ও হৃদয়হীন যে, রোগী থাকলে তাদের ভাড়া দেন না। রীতিমতো নোটিস ঝুলিয়ে বলে দেওয়া হয়, ‘এই বাড়িতে রোগী ভাড়া দেওয়া হয় না।’ অধিকাংশ বাড়ির মালিকই ব্যাচেলরদের মুখের ওপরই দরজা বন্ধ করে দেন।

অনেক বাড়িওয়ালা আবার সাংবাদিক, উকিল ও পুলিশ সদস্যকে বাড়ি ভাড়া দেন না। কেউ কেউ আবার অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য করেন, নোয়াখালী বা বরিশালের বাসিন্দাদের কৌশলে ফিরিয়ে দেন। অভিজাত এলাকার কিছু অমানবিক বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াদের বিড়াল-কুকুর এমনকি পাখিও পুষতে বাধা দেন। প্রতিবাদ করলে ভাড়াটিয়াকে ইশারায় বাড়ি ছাড়ার কথা বলা হয়। অনেকে পরিবারের সদস্য গুনে ভাড়া দেন, আবার অনেক বাড়িতে রাত ১১টার পর মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বিবেকহীন একশ্রেণির বাড়ির মালিকের এসব নানা বাহানায় জেরবার ভাড়াটিয়ার প্রাণ। তবু বাধ্য হয়েই ভাড়াটিয়াকে মেনে নিতে হয় এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, কার্যকর কোনো ভাড়াটিয়া নীতিমালা না থাকায় দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠছে এসব বাড়িওয়ালা। টাকাটাই তাদের কাছে মুখ্য, মানবিকতা বা নৈতিকতা নয়। আবার অনেকে বলছেন, রাজধানীর প্রায় কোটি ভাড়াটিয়া রয়েছেন। কিন্তু তাদের কোনো কার্যকর সংগঠন বা ঐক্য নেই। এ ঐক্যহীনতার কারণে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগটি নেয় বাড়িওয়ালারা। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নীরব ভূমিকা সত্যিকার অর্থেই দুঃখজনক। আমরা প্রত্যাশা করি সরকার নাগরিকদের অধিকার রক্ষার্থে কার্যকর দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ করবে।