আজ জাতীয় শোক দিবস

ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬

আজ জাতীয় শোক দিবস

পুরনো ক্ষত হোক চলার শক্তি

সম্পাদকীয় ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০১৯

print
আজ জাতীয় শোক দিবস

এক নদী রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হলো দেশ। যার আহ্বানে বাঙালি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। রাষ্ট্রপতি পদে থেকেই যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ নতুন করে গড়তে কাজ শুরু করেন জাতির জনক। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেই ভয়াল দিন, যেদিন বর্বর সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে গুলি করে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে খুন করল। এখনো সেই ক্ষত নিয়ে দুঃখ ভারাক্রান্ত জাতি পালন করে জাতীয় শোক দিবস। তাই এই দিনে বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা সবাই প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করি।

’৭১ এ দেশ হানাদারমুক্ত হলেও পাকিস্তানি দোসরা লুকিয়ে ছিল। বঙ্গবন্ধু তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা করেছিলেন। অথচ স্বাধীনতার কয়েক বছরের মধ্যেই সপরিবারে খুন করা হলো তাকে। ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসায় সেদিন রক্তাক্ত হয়েছিল পুরো পরিবার। যে রক্তের দাগ থেকে যাবে কালে কালে। ছোট্ট রাসেলও সেদিন বুলেটের আঘাত থেকে মুক্তি পায়নি। সেদিন বাংলাদেশকে, জাতির অগ্রগতিকে করা হয়েছে পঙ্গু। আর ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা। তাদের একজন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যার নেতৃত্বে আজ উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ। তার হাতেই ডিজিটাল এবং আধুনিক হচ্ছে দেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে দেখা সোনার বাংলা। কিন্তু ১৫ আগস্টের ক্ষত বাঙালির রন্ধ্রে থেকে যাবে যুগের পর যুগ।

দেশের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবেই রচিত ১৫ আগস্ট। সে সময় জাতির কর্ণধারের অকাল প্রয়াণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমূল অর্থনীতি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে রাজনৈতিক পালাবদল এবং নানা নাটকীয়তায় তার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হলেও সম্ভব হয়নি। কারণ ইতিহাস কখনো মোছা যায় না। দেশের রাজনৈতিক-গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় বঙ্গবন্ধুর অবদান অসামান্য। ৫৫ বছরের জীবনে তার কর্মের পরিধি এবং অবদান শুধু বাঙালি নয়, মনে রাখবে বিশ্ববাসী।

দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে বাংলার অধিকার রক্ষায় কখনো পিছপা হননি বঙ্গবন্ধু। স্বাধীন বাংলার মর্যাদা এবং নিজের ভূমি রক্ষায় ছিলেন আপসহীন। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে দেশ যখন মাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে তখনই হিংসা-নৃশংসতার শিকার হতে হয়েছে জাতির পিতাকে। প্রাণ দিতে হলো পরিবারের সবাইকে। এত কিছুর পরও চক্রান্তকারীরা সফল হতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে পৃথিবী থেকে তার রক্তের ধারা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। আজ কয়েক যুগ পরও তারই সুযোগ্য কন্যার হাত দিয়ে অর্থনৈতিক, গণতান্ত্রিক এবং আধুনিক সোনার বাংলা তৈরি হচ্ছে। শোকের ক্ষত আজ পরিণত হয়েছে শক্তিতে। দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের ত্যাগ ভোলার নয়। তাই আজ মহান জাতীয় শোক দিবসে তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।