চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট

ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬

চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট

কঠোর হাতে দমন করুন

সম্পাদকীয়-১ ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০১৯

print
চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট

বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেই পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান আনুষ্ঠানিকতা কোরবানি শেষ হয়েছে। এই সময়েই বিপুল পরিমাণ পশুর চামড়া নিয়ে শুরু হয়েছে নয়ছয়। ঈদের আগে ট্যানারি মালিক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা করে কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হলেও এখন তা মানা হচ্ছে না। আর ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, এবার চামড়ার দাম স্মরণকালের সর্বনিম্ন। এজন্য অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন ওপরমহলের লোকজনও। তাছাড়া, ন্যায্যমূল্যে চামড়া বিক্রি না করতে পেরে তা নষ্ট করছেন অনেক ভুক্তভোগী।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া রপ্তানিতে উদ্যোগ নিলেও তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দেশীয় শিল্প বাঁচাতে ব্যবসায়ী সংগঠন থেকে এই দাবি জানানো হয়েছে। অথচ চামড়ার দাম নিয়ে হেরফের করছেন ব্যবসায়ী মহলের অনেকেই। বছর বছর কোরবানির পর বিপুল পরিমাণ চামড়া নিয়ে কারসাজির অপেক্ষায় থাকে সিন্ডিকেটের অসৎ ব্যবসায়ীরা। আর হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েও খেলাপি হয়ে আছেন অনেক ব্যবসায়ী। তারপরও অসৎদের দৌরাত্ম্য কমে না।

এবারও এক কোটির বেশি পশু জবাই করা হয়েছে। দেশের প্রায় সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে কাঁচা চামড়া। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই তা প্রক্রিয়াকরণ করতে হবে। অথচ এরই সুযোগ নিচ্ছে কতিপয় চামড়া ব্যবসায়ী এবং ট্যানারি মালিক। সংরক্ষণে জটিলতা এবং উপযুক্ত দামে বিক্রি না হওয়ায় অনেকেই চামড়া নষ্ট করছেন। এ কথাও সত্য, চামড়া জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। দুঃখের বিষয়- শুধু চামড়া নয়, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কবলে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারও।

প্রতিবছর কোরবানিতে যে বিপুল পরিমাণ চামড়া উৎপাদন হয় তা দিয়েই সারা বছরের দেশীয় চাহিদা পূরণ হয়। সেই চামড়া দিয়ে বানানো পণ্য বিদেশেও রপ্তানি হয়। চামড়া ছাড়া এর আগেও দুধ, ফসল, ধানসহ উৎপাদিত পণ্য নষ্ট করতে দেখা গেছে সাধারণকে। এবারও ন্যায্যদামে চামড়া বিক্রি না করতে পেরে ভুক্তভোগীরাই তা নষ্ট করছেন। সরকার থেকে কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। সিন্ডিকেটের কারণেই চামড়ার বাজার এবং উৎপাদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ ন্যায্যদামে চামড়া সংগ্রহ করলে ব্যবসায়ী, ট্যানারি মালিক ও উৎপাদনকারীরা লাভবান হবেন। সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে সিন্ডিকেট বন্ধে সরকার পক্ষকেই কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।