চিঠি লিখে ছাত্রীর আত্মহত্যা

ঢাকা, রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬

চিঠি লিখে ছাত্রীর আত্মহত্যা

দোষীদের কঠোর শাস্তি দিন

সম্পাদকীয় ডেস্ক ৭:১০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৯

print
চিঠি লিখে ছাত্রীর আত্মহত্যা

অনাকাক্সিক্ষত এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনা থামছে না। অপরাধ প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। কুকর্ম করে বিচারের বাইরে থাকা, শাস্তি না হওয়া, আইনি ফাঁক-ফোকর এবং অনিয়মের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাধারণ মানুষ। খুন-ধর্ষণের মতো অপকর্মও থেমে নেই। এবার আত্মহত্যা করেছেন এক মাদ্রাসাছাত্রী। ক্রমাগত উত্ত্যক্ত ও অশ্লীল ছবি বানিয়ে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকির কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে চিরদিনের মতো বিদায় নিয়েছে পটুয়াখালীর দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। মৃত্যুর আগে চিঠিতে লিখেও গেছে চার বখাটের নাম।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিজ বাড়িতে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে স্থানীয় মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী স্বর্ণা আক্তার। মৃত্যুর পর চিরকুট পাওয়া এবং থানায় মামলা হলেও শেষ খবর পর্যন্ত অভিযুক্তদের পাকড়াও করতে অভিযান পরিচালনা করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু ওই ছাত্রীর মৃত্যুতে তার পরিবারের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। এখন অভিযুক্তদের ধরে তদন্তসাপেক্ষে দোষ প্রমাণিত হলে তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আমরা বারবার অপরাধীদের আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির কথা বলছি। আদালত তা করলেও বেশিরভাগ শাস্তির উদাহরণ গণমাধ্যমে প্রকাশ বা জনসম্মুখে না আসায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। স্বাধীন দেশের মানুষ হয়েও নিরাপত্তার অভাবে যদি কেউ আত্মহত্যা করে তবে সে দায়ভার রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। পটুয়াখালীর ওই ছাত্রীর আত্মহত্যায় শোকাহত সবাই। বখাটের উৎপাতেই ধরা ছাড়তে হলো স্বর্ণাকে।

আমরা দেখেছি, ফেনীতে শারীরিক নির্যাতন এবং মামলা তুলে না নেওয়ায় গায়ে আগুন দিয়ে খুন করা হয় নুসরাত জাহান রাফীকে। পটুয়াখালীর ওই মাদ্রাসাছাত্রীর আত্মহত্যাও নিতান্ত কোনো তুচ্ছ ঘটনা নয়। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইন্টারনেটকে ঘিরে অনেকের ক্ষতি হচ্ছে। আইনি বিধান থাকার পরও নিরাপত্তার অভাবে আত্মহত্যার ঘটনা কখনো প্রত্যাশিত নয়। এ ব্যাপারে আর কোনো হেলাফেলা নয়। অতিদ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করাই দেশবাসীর দাবি।