পানির সংকটে বিশ্ববাসী

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পানির সংকটে বিশ্ববাসী

বিপর্যয় রোধে পদক্ষেপ নিন

সম্পাদকীয় ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০১৯

print
পানির সংকটে বিশ্ববাসী

বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা ও শীত, অনাকাক্সিক্ষত বন্যা, বজ্রপাত, দাবানল ইত্যাদিই বিপর্যয়ের উদাহরণ। এসব দুর্যোগের প্রধান কারণ প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি। গণহারে বৃক্ষ নিধন, কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি এবং সাধারণের অসচেতনতার কারণেই হুমকির মুখে পরিবেশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পানির সংকটও।

এরই মধ্যে পৃথিবীর চারভাগের একভাগ মানুষ চরম পানির সংকটে ভুগছে। বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখন থেকেই বিশ^বাসীকে সচেতন হতে হবে। তা না হলে সামনের দিনগুলোতে এ চিত্র আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন বলছে, ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১৭টি দেশে বসবাসকারী বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ মানুষ মারাত্মক পানির সংকটে ভুগছে। ওয়ার্ল্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণা প্রতিবেদনে কাতার, ইসরায়েল, লেবানন, ইরান, ভারত, পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও ইউরোপের ওই দেশগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেসব দেশে ভূগর্ভস্থ এবং ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের ৮০ শতাংশ পানি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পানির মারাত্মক সংকট দেখা দেয় প্রতিবছর। তা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলেছে।

পৃথিবীর তিন ভাগের দুই ভাগ সমুদ্র হলেও সে পানি এখনো ব্যবহারের অনুপযোগী। চাষাবাদ এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় কাজে মিঠাপানিই ভরসা। আর এই পানির পরিমাণ দিন দিন কমছেই। এই পানির অভাবেই সামনের দিনগুলোতে মহামারী দেখা দিতে পারে বলে ধারণা অনেক বিজ্ঞানী-গবেষকের। অনেকেই আবার বলছেন, পানি নিয়েই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পরিবেশের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখাই মুখ্য বিষয়। একই সঙ্গে মজুদ থাকা পানির অপচয় রোধেও প্রত্যেক দেশকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

আমাদের দেশেরও পানির সংকট রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় নিরাপদ পানি নিয়ে শঙ্কা বিদ্যমান। তাছাড়া, অনাবৃষ্টিতে মাঝে মধ্যেই ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশে ক্ষতির পরিমাণ কম হলেও খরার প্রভাবে অনেক দেশ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতিসংঘের মতো বিশ্বের বড় বড় সংগঠনগুলোকে পরিবেশ রক্ষার দিকে নজর দিতে হবে। বৈশ্বিক শান্তি নিশ্চিত করতে পরিবেশ বিপর্যয়ের সঙ্গে জড়িত এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। সব দেশ একত্র হয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব।