সরকারি কাজে বন্ধ হচ্ছে

ঢাকা, রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬

সরকারি কাজে বন্ধ হচ্ছে

ইটভাটা, নিয়ন্ত্রণ করুন

সম্পাদকীয় ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০১৯

print
সরকারি কাজে বন্ধ হচ্ছে

পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ গাছপালার সংখ্যা কমে যাওয়া। আর, গাছপালা কমে যাওয়ার প্রধান কারণগুলোর একটি ইট উৎপাদন ক্ষেত্র ইটভাটা। তাছাড়া, কৃষিজমির পরিমাণ হ্রাস এবং বায়ুদূষণের জন্য জড়িত ভাটা। পরিবেশের ক্ষতির জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী এই ভাটাগুলো, যা দেশব্যাপী ছড়িয়ে আছে। চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্মাণকাজে ইট ব্যবহার বন্ধের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কেননা, ইটের ব্যবহার কমানো গেলেই কমে আসবে ভাটার সংখ্যা। দেশসহ বৈশ্বিক পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকাতে এ জাতীয় পদক্ষেপ জরুরি।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছর থেকেই ধীরে ধীরে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে সরকারি কাজে ইটের ব্যবহার শূন্যের কোটায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একদিকে, কাঠ এবং মাটি পুড়িয়ে ইট বানানোর ফলে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমির ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে, উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল। আর, রাজধানীর বায়ুদূষণের ৫৮ শতাংশই হয় পাশর্^বর্তী ইটভাটাগুলোর জন্য। শুধু ঢাকা নয়, জেলা-উপজেলা শহর এমনকি প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়েছে ইটভাটা।

এদিকে বিপুল পরিমাণ ইট তৈরি এবং বিক্রি করে মালিক শ্রেণি লাভবান হলেও পাশ্ববর্তী এলাকা যে কি পরিমাণ দূষিত হচ্ছে তা বুঝতে পারছেন স্থানীয়রা। অথচ, বেশির ভাগ ইটভাটা সরকার সংশ্লিষ্টদের ফাঁকি দিয়ে অথবা তাদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশেই তা গড়ে উঠেছে। বলা বাহুল্য, অননুমোদিত কিংবা অনুমোদিত উভয় ইটভাটাই সমান ক্ষতির কারণ। তারপরও আশা জাগানিয়া ব্যাপার হলো, দেশের অনেক জায়গায় দিন দিন পরিবেশবান্ধব ইটভাটা গড়ে উঠছে যেগুলোতে পরিবেশের ক্ষতি না করে উৎপাদন হচ্ছে ইট।

সরকারি কাজ ব্যতীতও এখন অনেক অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে। তাছাড়া, ইটের ব্যবহার পুরোপুরি দূর করাও সম্ভব নয়। তারপরও, পরিবেশ বিপর্যয়ে জড়িত প্রতিটি ভাটার ব্যাপারে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে পরিবেশ অধিদফতরকে। বন্যা, বজ্রপাত, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠেকাতে ইটভাটা আধুনিকীকরণের বিকল্প নেই। তাছাড়া ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার না করে বিদ্যুৎ কিংবা অন্য উপায় খুঁজে বের করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যুগ যতই আধুনিক থেকে অত্যাধুনিক হোক না কেন, প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ কিংবা গাছের বিকল্প পাওয়া সম্ভব নয়। গাছ রক্ষা ও পরিবেশ অনুকূলে রাখতে ইট তথা ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া অপরিহার্য।