ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা

রক্ষা চায় দেশবাসী

সম্পাদকীয়-১ ৯:১৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৩, ২০১৯

print
ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা

ইতোমধ্যেই ডেঙ্গুতে কাতর দেশের মানুষ। কিছুদিন রাজধানীতে এর প্রকোপ থাকলেও তা দেশব্যাপী ছড়িয়েছে। ভয়ানক বিষয় হলো-শুধু আমাদের দেশ নয় প্রতিবেশী রাষ্ট্র এমনকি আমেরিকার কয়েকটি দেশেও ডেঙ্গু ভয়ানক আকার ধারণ করছে। আমাদের দেশে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এই অবস্থাতেও কিছু অসৎ ব্যবসায়ী ডেঙ্গু থেকে সুযোগ বের করে সাধারণের অর্থ আত্মসাৎ করছে। সরকারের ওপরমহল থেকে শুরু করে নিম্নশ্রেণির নাগরিক যখন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা পড়ছে তখনো হাসপাতালে ব্যবসার দৌরাত্ম্য বাড়ছে, যা মোটেও সমীচীন নয়।

খোলা কাগজ বলছে, গত কয়েক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজধানীসহ সারা দেশের প্রায় প্রত্যেকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে শত শত রোগী ভর্তি হয়েছেন। আবালবৃদ্ধবনিতা; বাদ যাচ্ছে না কেউ। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা, ওষুধ এবং ডাক্তার-নার্স না থাকার সুযোগ নিচ্ছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। ডেঙ্গু শনাক্ত এবং চিকিৎসায় অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ারও প্রমাণ মিলেছে। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালত অনেককেই জরিমানা করেছেন। তারপরও ভয়াবহ ডেঙ্গু নিয়ে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হয়নি। সরকার যেখানে ডেঙ্গু শনাক্তের মূল্য নির্ধারণ করে দিল তারপরও কতিপয় অসাধুরা হাতিয়ে নিচ্ছে বাড়তি টাকা। অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রশাসনেরও নজরের বাইরে থাকছে।

রাজধানীতে ডেঙ্গুকে ঘিরে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেলেও উন্নতি বোঝা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে মশক নিধনে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়েছে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। ঢাকার বাইরে এ চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় প্যাথলজির নিশ্চয়তা না থাকা, রোগীর ধারণ ক্ষমতা ও চিকিৎসক সংকট থাকায় হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসায়ী যেভাবে পারছে সেভাবেই অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি এমন, যেন দেখেও দেখার কেউ নেই। রাষ্ট্র কর্তৃক ডেঙ্গু প্রতিরোধে যখন সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে তখন অসুস্থতার দোহাই দিয়ে টাকা লুফে নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ডেঙ্গু এখনো মহামারী আকার ধারণ না করলেও তা খুব বেশি দূরে নেই। প্রতিদিন রোগীদের উপচেপড়া ভিড় তার সাক্ষ্য বহন করছে। এ অবস্থা পরিবর্তনে অন্তত ভয়ঙ্কর এই রোগ নিয়ে কোনোরূপ অবৈধ ব্যবসা কাম্য নয়। এর আগেও দেখা গেছে, বন্যা পরিস্থিতি কিংবা বিরূপ আবহাওয়ায় আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

এবার দেশব্যাপী ডেঙ্গু ছড়ানোর পরও হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো একই কাজ করছে। তাই, ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা বন্ধে নাগরিকদের সহায়তায় প্রত্যেক জেলা-থানায় নিয়োজিত স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যবসা বন্ধ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করতে হবে সরকারকেই। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু নিমূল করে দেশবাসীকে রক্ষা করাই সবচেয়ে মুখ্য ব্যাপার।