কমছে জীবনের মূল্য

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কমছে জীবনের মূল্য

মানবিক হোন

সম্পাদকীয় ৯:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৩, ২০১৯

print
কমছে জীবনের মূল্য

কেউ কারও খবর রাখছে না। বিপদে পড়লেও কেউ ফিরে তাকাচ্ছে না। দেশে এখন এই-ই হাল। নানা প্রান্তে মাঝে মধ্যেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনের ঘটনা ঘটছে। নিয়মিত না হলেও কিছুদিন পরপরই এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। গত কয়েক দিনে মাত্র দুই টাকা, একশ টাকা কিংবা এক শতক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একাধিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। মনে রাখা বাঞ্ছনীয়, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উগ্রতা নয় বরং সহনশীল হতে হবে সবাইকে। মানবিক দিক বিবেচনা করাও প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মাত্র দুই-তিন দিনের ব্যবধানে কক্সবাজার, বগুড়া এবং ফেনীতে অতি সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনোখুনির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুই জন অতিসামান্য কয়টা টাকার জন্য প্রাণ হারিয়েছেন। আর, একজন এক শতক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারিতে নিহত হয়েছেন। খবর হওয়ার পরও এই জাতীয় ঘটনা থেমে নেই। এর আগে বরগুনা, চট্টগ্রামেও প্রকাশ্যে মারামারি এবং খুনের ঘটনা ঘটেছে। তারপরও দেশের সাধারণ মানুষ কেন উগ্র হচ্ছে তা পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে না।

দেশ যখন আমূল উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখন সহিংস ঘটনা চাড়া দিয়ে উঠছে। কয়েকদিন আগে শুধুমাত্র গুজবকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে একাধিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে পিটুনিতে আহত হয়েছেন অনেকেই। প্রত্যেকটি ঘটনার সময় ধারে কাছে অনেক লোক থাকলেও কেউ এগিয়ে আসছে না। সবার মধ্যেই আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। ছোটখাটো তর্কাতর্কি, গায়ে হাত তোলা কিংবা মতের অমিল হওয়ায় প্রায়ই নৃশংস ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া, কিশোর-যুবকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেও খুনের ঘটনা ঘটছে।

বিদ্যমান এই অবস্থা থামাতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। তাছাড়া, তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সাধারণকেও আরও সচেতন হতে হবে। অতিদ্রুত প্রশাসনের লোকজনকে খবর দিলে অনেক অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু কমে আসবে। তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান চর্চা, শিক্ষার হার, মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উগ্র মনোভাব। এই প্রবণতা কমাতে হলে সংস্কৃতি চর্চা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও তৎপর থাকতে হবে। উগ্রতা ছেড়ে মানবিক এবং সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই তুচ্ছ কারণে নিহতের ঘটনা রোধ করা সম্ভব।