ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে গুজব

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে গুজব

সচেতনতার বিকল্প নেই

সম্পাদকীয়-১ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৯

print
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে গুজব

গত কয়েক দিনে গুজব আতঙ্কে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে মারা গেছেন অনেকেই। গুজবটি ঠিক এমন, ‘এলাকায় ছেলে ধরা এসেছে’। ব্যাস, এতেই মানুষের মনে যে উদ্বেগ দেখা দিল তাতেই বলি হলো বেশ কয়েকজন। রাজধানী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পাবনাসহ আরও অনেক জেলাতেই গুজব আতঙ্কে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে গুজবে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বলা হলেও তাতে কাজ হচ্ছে না। উল্টো আদিম যুগের সেই কল্পকাহিনীকে ভিত্তি করেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ‘সচেতনতা’ নামক শব্দটিও এখানে বিমূর্ত হয়ে আছে।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে দেশে গণপিটুনিতে অন্তত নয়জন মারা গেছেন। গণপিটুনির শিকার অধিকাংশই নারী, মানসিক ভারসাম্যহীন এবং মাদকাসক্ত। কিন্তু মারধরের কারণে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হওয়ায় রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে না। আর ‘পদ্মা সেতুর জন্য মানুষের মাথা প্রয়োজন’ জাতীয় উদ্ভট গুজবের রেশেই দেশজুড়ে এমনটি হচ্ছে। আধুনিক যুগ এবং শিক্ষিত সাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন মানুষও যদি এহেন বিশ্বাসে বন্দি হন তাহলে চলবে কীভাবে! একদিকে মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যাধুনিক হওয়ার পথে ধাবমান। অন্যদিকে গুজবে বিশ্বাস করে তারাই আবার আদিম যুগের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সমস্যা শুধু সচেতনতার অভাব।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করেই বেশিরভাগ গুজব ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসন এবং সরকার সংশ্লিষ্টরা সচেতন থাকলেও তা রোধ করা যাচ্ছে না। যারা এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন তাদের অসচেতনতার কারণেই এমনটি হচ্ছে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে না পারায় অনেক ভুক্তভোগী গণপিটুনির শিকার হয়ে অসাবধানতাবশত মারাও পড়েছেন। সবকিছু ছাপিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি অর্থাৎ গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। গুজবের বিষয়ে আসল তথ্য উদ্ঘাটন না করে উগ্র আচরণ আদিম সভ্যতার অংশ। এই একুশ শতকে গুজব নিয়ে মাতামাতি কিংবা আতঙ্কিত হওয়াও নির্বুদ্ধিতার শামিল। তাই আতঙ্কিত হয়ে উগ্র না হয়ে স্থির মস্তিষ্কে সচেতন হতে হবে সবাইকে।

আমরা বলতে চাই, যে কোনো পর্যায়ে অন্তত গুজব নিয়ে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট না করে সচেতন মনোভাব নিয়ে জানার চেষ্টা করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহারেও থাকতে হবে সতর্ক। মূলত সেখানেই বেশিরভাগ গুজব ছড়ায়। বাস্তবতা হলো-প্রযুক্তির উন্নয়ন হলেও সাধারণের মধ্যে তার যথার্থ ব্যবহারে ঘাটতি রয়েছে। ফলে একটি ভুয়া বা মিথ্যা তথ্যকে তারা সত্য হিসেবেই ধরে নিয়ে দেখা দিচ্ছে গণ্ডগোল। বলা প্রয়োজন, দেশজুড়ে ‘ছেলে ধরা’ বা ‘পদ্মা সেতুতে মাথা লাগা’র যে গুজব ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সাধারণ জনগণের সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাই গুজব রোধের সমাধান।